টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে ফল উৎসব

‘নিয়মিত দেশীয় ফল খেলে, সব ধরনের পুষ্টি মেলে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে শিশুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশীয় ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। দেশীয় ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিশু শিক্ষার্থী ও পাঠাগারের পাঠকদের সচেতন করতেই এ আয়োজন।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুষ্টিবিদ মো. আব্দুল হাকিম, কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হালিমুজ্জামান, পাঠাগারের উপদেষ্টা হাজী মো. কোরবান আলী এবং সদস্য হুমায়ুন কবির, রেজওয়ানা শরীফ ও আতাউর রহমান মিন্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদস্য শাকিল আহমেদ, মাহবুব হাসান আদর, সিয়াম হোসেন এবং সহকারী গ্রন্থাগারিক সীমা আক্তারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মৌসুমি ও দেশীয় ফল স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য। প্রতিটি ঋতুর ফলেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ, যা সুস্থ দেহ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিয়মিত দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, এ আয়োজনের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দেশীয় ফল, সেগুলোর পুষ্টিগুণ এবং ফলদ গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তারা বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে।
পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বই পাঠের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে পাঠাগারটি নিয়মিত শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফল উৎসব তারই একটি অংশ।
আলোচনা শেষে আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেঁপে, জাম, লটকন, পেয়ারা, ডেউয়া, আমলকি, আনারসসহ বিভিন্ন দেশীয় ও মৌসুমি ফলের প্রদর্শনী করা হয় এবং শিশুদের মধ্যে ফল বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগান নিয়ে ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ, সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে অণুপাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ভোরের আকাশ/এম