ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কার্যক্রম, দূর্ঘটনার আশংকা

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থান থেকে কখনও মাথার ওপর,আবার কখনো যন্ত্রপাতির ওপর খুলে পড়ছে প্লাস্টার। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় শ্যাওলা ধরে প্লাস্টার খুলে গেছে। আবার কোন ভবনের দেওয়াল ফেটে হেলে গেছে। নিরাপত্তা প্রাচীরের কোথাও ভেঙে গেছে। খুঁটির মাধ্যমে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে ইটের ভগ্ন দেওয়াল।
কঙ্কালসার জীর্ণ-শীর্ণ ঘড় আর ইটের ভাঙ্গা দেওয়াল দেখে মনে হবে এগুলো পরিত্যক্ত ভবন। বোঝার বাঁকি নেই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কিংবা মেরামত করা হয়নি। যেকোনো সময় দূর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে শুণ্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ন ৬ জন প্রধান কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে যেন এক সংকটাপন্ন অবস্থা। বিপাকে পরেছেন সেবাগ্রহীতারা। তবে ইউএনও বলছেন সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সমাজ সেবা অফিসের ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন এসব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কোনো কোনো দপ্তরে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। আবার খসে পড়ছে ছাদের প্লাস্টারও।
অন্যদিকে, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৬টি দপ্তরে প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এসব দপ্তরের মধ্যে রয়েছে- উপজেলা নির্বাচন অফিস, সমবায় অফিস, মহিলা বিষয়ক দপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস। এতে বিপাকে পরছেন সেবাগ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কার্যক্রমে দায়সারা মনোভাবের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে দপ্তরের কার্যক্রমে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটছে। সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পাশাপাশি বারবার অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরে মাতৃত্বকালীন ভাতা নিতে আসা সাদিয়া আক্তার জানান, ‘এই অফিসে ঢুকতেই ভয় লাগে। দক্ষিণ দিকের প্রাচীরটি গাছের গুড়ির ঠেস দিয়ে ধরে রেখেছে। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেবা নিতে আসা মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জানান, ‘অনেক সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সব ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। তা না হলে ভোগান্তি আরো দীর্ঘ হবে। অতিদ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলি ভেঙে আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
উপজেলা এনজিও সমন্বয় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজসেবা অফিসের দেওয়ালগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বিভিন্ন জায়গায় শ্যাওলা ধরে প্লাস্টার খুলে গেছে। সেই সাথে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অবস্থাও প্রায় একই রকম। সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতে চাইলে দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে একটি আধুনিক মানের নিরাপদ ভবন নির্মাণ জরুরি। তা না হলে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষ পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে নিবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা বেগম জানান, সুনির্দিষ্টভাবে সমস্যাগুলো চিন্থিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই