দেশি-বিদেশি রঙিন ফুলের সাজে সাজবে চট্টগ্রামের ডিসি পার্ক

শুরু হচ্ছে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট-বন্দর সংযোগ সড়ক সংলগ্ন ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসব।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে মাসব্যাপী এ ফুল উৎসবের চলবে আগামী ৮ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। এক সময় অবৈধ দখলে থাকা বিশাল সরকারি এ খাস জায়গা দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে মনোরম রঙিন ফুলের রাজ্য। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ফৌজদারহাট ডিসি ফ্লাওয়ার পার্কে মাসব্যাপী এ ফুল উৎসব দেশি-বিদেশি দশনার্থীদের জন্য আর্কষণীয় করে তোলা হয়েছে। এক সময় অবৈধ দখলদাররা সেখানে হোটেল রেস্তোরা ব্যবসার নামে গড়ে তুলেছিল মাদক আসক্তদের নিরাপদ আড্ডাখানাা। ১৯৪ একরের বিশাল সরকারি খাস জায়গা দখল করে সেখানে গড়ে উঠেছিল শুকতারা নামের একটি অবৈধ হোটেল। যেখানে রাতে বসতো মাদকের রমরমা আড্ডা আর দিনে চলতো স্কুল-কলেজ পালানো শিক্ষার্থীদের অবাধ মেলামেশা। সর্ব সাধারণের জন্য উম্মুক্ত রঙিন ফুলের এ রাজ্যে এখন শোভা পাচ্ছে মাদকের পরিবর্তে বর্ণিল ১৪০ জাতের লক্ষাধিক ফুলে সাজানো দৃষ্টিনন্দন এক ফ্লাওয়ার পার্ক।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে চতুর্থ বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহত্তম ফ্লাওয়ার ফেস্টিভেল বা ফুল উৎসব। পাখিদের কল-কাকলিতে মুখর সমুদ্র তীরবর্তী পার্কটির মুক্ত বাতাসে দোল খাওয়া রঙিন ফুলের শোভা দেখে নজর কাড়ছে আগত ভ্রমণপ্রেমীদের। এ ফ্লাওয়ার পার্কে এখন ভিড় করছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু হাজারো মানুষ। রঙিন ফুলে সাজানো পার্কটিতে রয়েছে দেশি ফুলের পাশাপাশি অসংখ্য বিদেশি জাতের ফুলও। এ যেন ১৪০ প্রজাতির রঙিন ফুলের সুবাস ছড়ানো এক রাজ্য। এ ছাড়াও পার্কটিতে থাকবে শিশুদের জন্য কিডস জোন, চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, ভায়োলিন-শো ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সু-ব্যবস্থা। পার্কটির সমগ্র এলাকা শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ‘সহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। সেখানে টিউলিপ, বার্হকালার, সালভিয়া, ফ্লক্স, এস্টার ও লিলিয়াম জাতের ফুলগুলো ছড়িয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশেও দক্ষিণা হালকা বাতাসে দুর থেকেও দৃষ্টিনন্দন গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে যেন বেরিয়েছে রঙিন ফুলের ঝর্ণা। সকালের কুয়াশা ভেজা হালকা রোদ কিংবা রোদেলা দুপুরে পার্কে ফুলের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। কেউবা আবার পড়ন্ত বিকেলে একটু বিশ্রাম কিংবা মুক্ত বাতাসের স্বাদ নিতে ছুটে যান রঙিন ফুলের এ রাজ্যে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ফুল উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন শিক্ষার পাশাপাশি ক্রিড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ পার্কের সমগ্র এলাকা জুড়েই থাকবে ফুলের বাগান‘সহ ফুলকেন্দ্রিক বর্ণিল দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। আর পাশ্ববর্তী জোড়াদীঘিতেও থাকবে নৌকা ভ্রমণ‘সহ বিনোদনের নানা আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা ফুলের সমারোহে ডিসি পার্ককে বর্ণিল ভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রজাতির ফুলের রয়েছে ভিন্ন রঙ, আকৃতি ও ঘ্রাণ। যা সহজেই দর্শনার্থীদের মনকে আকৃষ্ট করবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীরা প্রতিদিন ৫০ টাকার টিকিট কেটে প্রবেশ করবে উৎসব স্থলে। প্রতিবছরের মতো এবারও ডিসি পার্ক এলাকার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহিনুল ইসলাম। এবারের ফুল উৎসবের সফলতায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন‘সহ সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এটি মাসব্যাপী ফুল উৎসবের চতুর্থ আয়োজন। এ বছরের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে পুরো মাসজুড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভায়োলিন-শো, কাউয়ালি সন্ধ্যা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গণভোট বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে একটি বিশেষ স্টল। পাশাপাশি বাংলাদেশে বসবাসরত ১৬টি দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে ফুল উৎসবে অংশ নেবেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য আয়োজন করা হয়েছে ফুডকোর্ট, বসার জায়গা, সেলফি কর্ণার, হাঁটার খোলা পথ, টিউলিপ গার্ডেন ও পাবলিক টয়লেটের সু-ব্যবস্থা।
ভোরের আকাশ/র.ই