পুদিনায় স্বপ্ন দেখছে সীতাকুণ্ডের চাষীরা

পুদিনা পাতায় রয়েছে বিভিন্ন ভেষজগুণ। রমজান মাস এলেই বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায় পুদিনার চাহিদা। পুদিনা পাতা ছাড়া যেন চলেই না রমজানের ইফতারি। ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি অধিক বাজারমূল্য পাওয়ার আশায় পুদিনা চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠেছে সীতাকুণ্ডের চাষিরা।
উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে চাষ হচ্ছে পুদিনার। সমতল ভূমি ছাড়াও পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে এ অঞ্চলের কৃষকদের বড় একটি অংশ পুদিনা চাষে ব্যস্থ সময় পার করছে। রমজানকে সামনে রেখে পুদিনা চাষীদের ছিল বহু স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। উপজেলায় সমতল ভূমি ও পাহাড়ি জমিতে পুদিনা চাষে রয়েছে চাষীদের ব্যাপক আগ্রহ। চাষীরা স্বাবলম্বী
হচ্ছেন এ পুদিনা চাষে। রমজান মাসে বড়া, চাটনি, হালিম, চনা, সালাদ, বোরহানি তৈরিতে খাদ্য তালিকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে পুদিনার।
এছাড়া বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী সহ চা, শরবত, মিল্ক চকলেট তৈরিতে পুদিনার ব্যাপক ব্যবহারে দিন দিন চাষীদের আগ্রহে স্থান পাচ্ছে এ চাষ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে প্রায় ২শত চাষী পুদিনা পাতা চাষে ব্যস্থ সময় পার করছে। এ বছর পুদিনার ফলন হয়েছে প্রায় ৮৫ মেট্রিক টন। যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
উপজেলার সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, সলিমপুর, কুমিরা, পৌরসভার এয়াকবনগর ও মহাদেবপুরের প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে পুদিনার চাষ করেছে কৃষকেরা। উপজেলার
শুধুমাত্র ভাটিয়ারীর খাদেমপাড়া এলাকাতেই পুদিনা চাষে সম্পৃক্ত ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক।
ভাটিয়ারীর জাহানাবাদ এলাকার খাদেমপাড়ার চাষিসফিইল আলম, শাহজাহান ও শাহ আলম জানান, লাভজনক চাষে পরিনত হওয়ায় দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে এলাকায় পুদিনা চাষীদের তালিকা।
খাদেমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলী নেওয়াজ জানান, প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখে পুদিনা পাতার বাড়তি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করেন চাষীরা। এ সময় চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। নিচতালুক এলাকার চাষি ইমাম হোসেন জানান, এবার পাহাড়ি এলাকায় ১০ শতক জায়গায় পুদিনার চাষ করেছেন তিনি।
বাজার মূল্য ভাল হওয়ায় ভালো মূনাফার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। সীতাকুণ্ড পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, উপজেলায় পুদিনা পাতার চাষ বেশ লাভজনক হয়ে ওঠেছে। চাষিরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা পেলে এয়াকুবনগরসহ পৌরএলাকার পাহাড়ি ঢালু জমিতেও উৎপাদনে বাম্পার ফলনের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ হেক্টর সমতল ও পাহাড়ি জমিতে ২শত কৃষক পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। সারা বছর পুদিনার চাষ হলেও রমজানের চাহিদা মেটাতে চাষীরা বাড়তি চাষ করে থাকেন। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে চাষীদের উৎপাদিত পুদিনা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়।
ভোরের আকাশ/আ.র