শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ৪ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ১০

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছে। এসময় হামলাকারীরা হ্যান্ডকাপ সহ দুই মাদক কারবারীকে ছিনিয়ে নেয় ও পুলিশের পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি ভাংচুর করে। বুধবার রাতে মাওনা এলাকায় উদ্ধার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এসময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে দুই মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও রাজীব পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত দুই নারীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী) দুপুরে শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মাদক এবং অপরটি পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টায় শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা পিয়ার আলী কলেজের উত্তর পাশ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও রাজিবকে আটক করে নিয়ে আসার সময় জাহাঙ্গীরের বাড়ীর সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরূপ কুমার বিশ্বাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ, কনস্টেবল আজিজুল এবং মোশারফ। তাদের মধ্যে কনস্টেবল মোশারফ হামলাকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়। তাদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের (পিয়ার আলী কলেজের উত্তর পাশ) দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার (২৮), নান্নু মিয়ার ছেলে জামাল (৩৪) এবং কামাল (৪৩), কামাল মিয়ার ছেলে আসিফ (২০) এবং আশিক (২৪), বাবুল মিয়ার ছেলে মুন্না (২০), ওয়াহাব উদ্দিনের ছেলে ফয়জুল্লাহ (২৬), আবুল কাশেমের স্ত্রী শিল্পী আক্তার (৩০), কাশেমের ছেলে লিমন (১৮) এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরমচটা গ্রামের মোহাম্মদের ছেলে আক্কাস (২৯)।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা পিয়ার আলী কলেজ এলাকার বুধবার রাতে একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদে অভিযানে যায় শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল। এসময় ইয়াবাসহ তিন মাদক লাকী আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. রাজীবকে আটক করে। তাদের আটকের খবরে স্থানীয় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা সংঘবন্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র, রামদা এবং লোহার রড নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এক পর্যায়ে অভিযানে ব্যবহৃত পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে তারা। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় এসআই অরূপ কুমার বিশ্বাস ও এসআই মুহাম্মদ মাসুদ রানাসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানার এস আই অরূপ কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বাড়ীর সামনে থেকে জাহাঙ্গীর, রাজীব ও লাকি আক্তারকে আটক করা হয়। এক পর্যায়ে তারা চিৎকার করলে আশপাশ থেকে অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা রাম দা ও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগী রাজীব পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশের দুইটি পিকআপ ভ্যানে হামলা করে এবং পুলিশের ব্যবহৃত সিএনজি ভাংচুর করে। পরে পুলিশ দুই নারীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি হাতকড়াসহ দুইজন আসামী পলিয়ে যাওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ