কাঠ-কাগজে তৈরি ‘জিয়াবাড়ি’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান কাওছার

কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড আর কাগজ—নিত্যব্যবহার্য এসব উপকরণ দিয়েই তৈরি হয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী এক বাড়ির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। দেখতে অনেকটা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে অবস্থিত জিয়া পরিবারের পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’র মতো।
ইউটিউবে বাড়িটির ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এক মাসের প্রচেষ্টায় এমন ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তরুণ কাওছার আলী। তাঁর তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়ি দেখতে এখন বাড়িতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। প্রশংসায় ভাসছেন এই তরুণ।
কাওছার আলীর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সর্বানন্দ গ্রামে। তিনি স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছেন তিনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট ছোট শিল্পকর্ম তৈরি করা তাঁর শখ। সেই শখ থেকেই এবার ঐতিহাসিক স্থাপনা জিয়াবাড়ির ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি করেছেন তিনি।
প্রায় এক মাস আগে ইউটিউবে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে অবস্থিত জিয়া পরিবারের পৈতৃক নিবাসের ছবি দেখেন কাওছার। ছবিটি দেখেই তাঁর মনে বাড়িটির আদলে কিছু একটা তৈরি করার ইচ্ছা জাগে। সাধারণ কিছু উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে বাড়িটির একটি ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাঁর ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরির প্রচেষ্টা।
নিজের জমানো টাকা ও বাবার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন কাওছার। এরপর কাঠ, হার্ডবোর্ড, কার্ডবোর্ড, কাগজ, প্লাস্টিক, আঠা ও রং ব্যবহার করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন স্বপ্নের জিয়াবাড়ি। মূল স্থাপনার অবয়ব ও বিভিন্ন অংশের আদল ফুটিয়ে তুলতে চলে তাঁর নিরন্তর চেষ্টা। প্রায় এক মাসের পরিশ্রমে পূর্ণতা পায় শখের এই শিল্পকর্ম।
কাওছারের তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়ির গঠনশৈলী দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। সাধারণ উপকরণে তৈরি হলেও মূল স্থাপনার বিভিন্ন অংশের আদল ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। একটি ছবিকে সামনে রেখে কল্পনা, ধৈর্য ও হাতের কাজের সমন্বয়ে তৈরি এই ক্ষুদ্র স্থাপনা এখন স্থানীয় মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রতিদিনই কাওছারের বাড়িতে আসছেন উৎসুক মানুষ। কেউ ক্ষুদ্র জিয়াবাড়ির সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ঘুরে ঘুরে দেখছেন এর নির্মাণশৈলী। দর্শনার্থীদের অনেকের মতে, অল্প বয়সে এমন সৃজনশীল কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ক্ষুদ্র এই শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি নিজের ভালোবাসা ও আগ্রহের প্রকাশ ঘটিয়েছেন কাওছার।
ছেলের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি বাবা নুরুল ইসলামও। কাপড়ের ব্যবসা করে সংসার চালালেও ছেলের শখ ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বাড়িটি তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি ছেলেকে উৎসাহও দিয়েছেন। পরিবারের এই সমর্থন কাওছারের শিল্পকর্মটি সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কাওছারের তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়ির খবর পৌঁছেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেও। শিল্পকর্মটি দেখে প্রশংসা করেছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। তিনি কাওছারের এই উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
একটি ছবি থেকে জন্ম নেওয়া স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কাওছার আলী। সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি তাঁর এই শিল্পকর্ম মানুষের কৌতূহল বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীলতারও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে নিজের হাতে তৈরি ক্ষুদ্র জিয়াবাড়িটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর।
কাওছারের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নিজের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে ইতিমধ্যে এলাকার মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তিনি। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে তাঁর এই প্রতিভা আরও বড় পরিসরে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা