অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বিরামপুরের রোগেদের ভোগান্তি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেদক রোগীর স্বজন সেজে ড্রাইভারকে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জানতে চান। ড্রাইভার ভাড়া জানান ২,৫০০ টাকা। সরকারি ভাড়া কত জানতে চাইলে তিনি জানান, “সরকারি রেট নেই, পাম্প তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। লিটারে ৫–৬ কিলোমিটার হিসেবে খরচ দিতে হবে”।
ড্রাইভার আরও বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের খরচ বেশি, কারণ পেট্রোল গাড়ি, খরচ বেশি হয়। বাংলাদেশে সব সরকারি গাড়ি লিটারে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার চলে। পাম্পে ৯ লাখ টাকা বকেয়া আছে। পাবলিক গাড়ি তুলনামূলকভাবে সস্তা, ২,২০০ টাকায় যাওয়া সম্ভব।
যদি স্বজনরা নিজেই টাকা দিয়ে তেল তোলেন, ড্রাইভার জানান, যাতায়াতের জন্য ২৩ লিটার তেল প্রয়োজন, খরচ ২৭–২৮শ টাকা হবে।
একই দিনে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিরাজুল ইসলাম নামে এক রুগিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভার তাকে নিতে অস্বীকার করেন। রুগির স্বজন মোছা রোকছানা পারভীন জানান, “আমি তেল খরচ দিতে চাইছিলাম, তারপরও ড্রাইভার একেবারেই যাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বলেন, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৯০০ থেকে ১১০০ টাকার পের্টোল যেতে পারে। তবে এত টাকার তেল যাওয়া কোনোভাবে সম্ভব না। আমার গাড়ি গ্যাস দিয়ে চলে মেডিকেল গেলে যাতায়াত ৭ থেকে ৮০০ টাকার গ্যাস যায়।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। এ ধরনের বিষয়ে কেউ আগে অভিযোগও করেননি। আপনি যদি অভিযোগ দেন, আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। আমাদের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত।”
ভোরের আকাশ/তা.কা