নেছারাবাদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সভাপতির জানাযার নামাজ ও দাফন সম্পন্ন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ এর জানাযায় দলমত-নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের ফজিলা রহমান মহিলা কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জানাযা।
সূর্য উঠার সাথে সাথে ভোর থেকেই মিয়ারহাট বন্দরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নিতে আসা হাজারো মানুষের ভিড়ে মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে আশপাশের সড়কে অটোরিকশাসহ স্থানীয় যানবাহনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জানাজার আগেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করেন। অনেকে ভিড়ের কারণে দূর থেকেই তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মন্জুর, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃরুহুল আমিন দুলাল, পিরোজপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃনজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম কিসমত।
আরো উপস্থিত ছিলেন, নেছারাবাদ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ ফকরুল আলম, সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান, স্বরুপকাঠী পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল, সাধারন সম্পাদক মোঃ মাইনুল হাসান, সাবেক আহ্বায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম ফরিদসহ জেলা ও উপজেলার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মন্জুর ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন পৃথক পৃথক বক্তব্যে বলেন, ওয়াহিদুজ্জামান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও জনপ্রিয় নেতা। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে নেছারাবাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানাজা শেষে মরহুম ওয়াহিদুজ্জামানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় ভারতের চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তিনি নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের মিয়ারহাটের সনামধন্য বেপারি বাড়ির মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনিতীতর হাতে খড়ি। পরবর্তীতে তিনি যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত স্বরূপকাঠি থানা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত স্বরূপকাঠি থানা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৪ সালে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি নেছারাবাদ রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রীসহ বহু আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু - বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব