শিবগঞ্জে গৃহবধূকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ, ঘাতক স্বামী আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির জেরে নাসিমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১১ মার্চ ) সকালে উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রাণীনগর-হঠাৎপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী অভিযুক্ত ঘাতক মিজানুর রহমান ভেজুকে রক্তমাখা লুঙ্গিসহ আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় নাসিমা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তার মরদেহ বাড়ির বাইরের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং সেপটিক ট্যাংক থেকে নাসিমার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আমরা নিহতের স্বামীর রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করি। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
নিহত নাসিমা বেগমের পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল মিজানুর। নিহতের বোন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "ওকে যখন তখন মারপিট করা হতো। কত ভিন্নভাবে যে অত্যাচার করত! সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব মুখ বুজে সহ্য করেছিল নাসিমা। আমি এখন আর কিছু চাই না, আমার বোনের খুনির ফাঁসি চাই।"
নিহতের ভাই জানান, তার বোন সন্তানদের মায়ার কারণে অত্যাচারী স্বামীর ঘর ছাড়তে চায়নি। তিনি বলেন, "বোনটা বাচ্চার জন্য সব সহ্য করে থাকতে চাচ্ছিল। একটা মানুষকে এভাবে অন্যায়ভাবে মারবে, আর বিচার হবে না? আমরা সঠিক বিচার চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিজানুর রহমান ভেজু আগে আরও তিনটি বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি চরমভাবে মাদকাসক্ত (গাঁজাখোর) ছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "মাঠে কাজ করার সময় আমরা খবর পাই যে একটা মহিলাকে মেরে পায়খানার ট্যাংকিতে ভরে রাখা হয়েছে। মিজানুর সব সময় ওর ওপর অত্যাচার করত। আমরা চাই এই ঘটনার এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক যেন আর কেউ নারীদের ওপর এমন পাশবিকতা করার সাহস না পায়।"
অন্য এক প্রতিবেশী জানান, মিজানুরের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও অসামাজিক। নেশার টাকার জন্য বা তুচ্ছ কারণে সে প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক টর্চার করত।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই