লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত দামে অতিষ্ঠ ভোক্তা

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের বাজারে চলছে চরম অস্থিরতা ও অনিয়ম। সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৭২৮ টাকা হলেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে দাম, আর ভোক্তারা পড়ছেন অসহায় অবস্থায়।
শহরের বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ আহাম্মদের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পত্রিকায় দেখি এক দাম, দোকানে গেলে আরেক দাম। ১৭২৮ টাকার গ্যাস ২৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অভিযোগ করলে দোকানিরা ডিলারকে দোষ দেয়। আমাদের দেখার কেউ নেই।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন গৃহিণী আসমা আক্তার। তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়লে আমাদের সংসারের খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে যায়। অতিরিক্ত ৫০০-৬০০ টাকা দেওয়া মানে অন্য খরচ কমানো। এই পরিস্থিতিতে আমাদের মতো পরিবার টিকেই থাকা কঠিন।”
রিকশাচালক হেলাল মিয়া জানান, দৈনিক আয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে গ্যাস কিনতেই। “সারাদিন পরিশ্রম করে যা আয় করি, তার একটা বড় অংশ গ্যাসের পেছনে দিতে হয়। সরকার দাম ঠিক করলেও আমরা সেই সুবিধা পাই না,”।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও অসংগতি। অভিযোগ রয়েছে, ডিপো থেকে ডিলার পর্যায়ে দাম বেশি নেওয়া হলেও কাগজপত্রে কম মূল্যের ভাউচার দেখানো হচ্ছে। ফলে প্রকৃত লেনদেনের একটি অংশ অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে ভোক্তার ওপর।
ডিলারদের দাবি, কোম্পানির নির্ধারিত দামের সঙ্গে পরিবহন ও শ্রম ব্যয় যুক্ত হয়ে তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একাধিক ডিলার জানান, “উচ্চ দামে গ্যাস কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।” অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাজারে দামের এমন অসামঞ্জস্য নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তারা এ ব্যাপারে দৃষ্টি রাখছেন।শীঘ্রই একটি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছেন বলে জানান তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের সাথে এ বিষয়ে আরো জানতে চেষ্টা করলে তারা এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, এটি শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়, বরং একটি গুরুতর অর্থনৈতিক অনিয়ম। প্রশাসন দ্রুত মনিটরিং জোরদার করে সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভোক্তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলপিজি গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং নির্ধারিত দামে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই