নড়াইলে বারণী উৎসব ঘিরে গ্রামীণ মেলা

নড়াইল সদরের বাকলী গ্রামের হরিগুরুচাঁদ মন্দিরের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও শাখা বারণী উৎসব উপলক্ষ্যে মতুয়া সম্মেলন ও গ্রামীণ মেলা হয়েছে।
বুধবার(১১ মার্চ) বিকাল হতে রাত পর্যন্ত চলে এ উৎসব।
বারণী উৎসব ও মতুয়া সম্মেলন ঘিরে বাগলী গ্রাম সহ এগারোখান এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। জেলা শহর থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী যশোর, খুলনা, মাগুরা থেকে দর্শনার্থীরা আসে এ উৎসব দেখতে। সেখানে দেশের ঐতিহ্যেবাহী নানা ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হয় কয়েকশ বিক্রেতা। নানা রমক বসরা সাজিয়ে বসে তারা।
শখের হাঁড়ি, মাটির সরা, ফুল, মাটির পুতুল, কাঠের একতারা, বাঁশের বাঁশি, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, মোয়া, মুড়কি, চানাচুর, বাতসা, মিষ্টি। ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের নাগরদোলা।
বারণী এ উৎসব স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মতুয়া মেলা নামে পরিচিত। আশপাশের নানা জায়গা থেকে মেলায় ভিড় করেন কয়েক হাজার মানুষ। সবার জন্য রয়েছে উন্মুক্ত নিরামিষ খিচুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা।
মুলিয়া পানতিতা গ্রাম থেকে মতুয়া উৎসব দেখতে এসেছেন দীপক রায়। তিনি বলেন,"প্রতিবছর এ মতুয়া উৎসব দেখতে আসি। এ বছর স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে এসেছি। এগারোখান এলাকার এই মতুয়া উৎসব খুবই নামকরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে দর্শনার্থীরা আসে। "
যশোরের অভয়নগর উপজেলা থেকে আসা কৃষ্ণ বৈরাগী বলেন, "ছোটোবেলা থেকে এ মেলায় আসি। মাঝে কয়েক বছর মেলায় আসতে পারিনি। এ বছর মেলায় এসে বেশ ভালোই লাগছে। মেলা ঘুরে ঘুরে দেখছি। পছন্দের খাবার ও খাচ্ছি।"
মতুয়া ও বারণী উৎসবের আয়োজক কমিটির সভাপতি মতুয়াচার্য গৌরাঙ্গ সিকদার বলেন, এগারোখান অঞ্চলের সকল হরিভক্তের আয়োজনে হরিচাঁদ মন্দিরে এ বছর ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও শাখা বারণী উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে আগত সকল ভক্তদের জন্য নিরামিষ খিচুড়ির খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ টি মতুয়া দলকে এ বছর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভক্তদের আগমন অনেক বেশি হয়েছে।
এসময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ধর্মীয় আলোচনা সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মতুয়াচার্য শ্রী গৌরাঙ্গ সিকদার। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিঠু বিশ্বাস। সঞ্চালনায় ছিলেন, নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, কাত্তিক অধিকারী ও বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ, প্রণব কান্তি অধিকারী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জিকো মাহমুদ, বুরহান খান, নিতিশ বিশ্বাস, অনুব ঘোষ প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে মন্দিরে জমিদানকারী ১৫ জন জমিদাতা কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ