মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গবেষণার বিকল্প নেই: মৎস্যমন্ত্রী

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেছেন, দেশের মৎস্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রস্তাবনা প্রয়োজন। গবেষক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টায় চাঁদপুর নদী কেন্দ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “আমি বাস্তববাদী ও খেটে খাওয়া মানুষ। দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। আগামী দিনগুলোতে আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাব। এ জন্য আপনাদের কাছ থেকে বাস্তববাদী প্রস্তাবনা প্রয়োজন।” গবেষণালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মৎস্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশ সবার—অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
দেশের নদ-নদী ও জলাশয়ে মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশ বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, দেশের নদ-নদী থেকে যেসব দেশীয় মাছের প্রজাতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিলুপ্তির পথে থাকা মাছের প্রজাতিগুলো নিয়ে গবেষণা করা জরুরি। পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। চাঁদপুরের অনেক জেলে মৎস্য আহরণসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। ফলে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের হাতে আটক হওয়ার পর অনেকেই আইন সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই জেলেদের আগেই সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে চাঁদপুর নদী কেন্দ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চলমান গবেষণা কার্যক্রম, বিভিন্ন উদ্যোগ ও সার্বিক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন নদী কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু কাউছার দিদার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সালিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, চাঁদপুর নদী কেন্দ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ফেরদৌস আলম বাবুসহ মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের এ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভোরের আকাশ/ এনউব