সাদ্দামের প্যারোল ইস্যুতে বাগেরহাটের এসপিকে বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি

দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের ঘটনায় বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিদেশি নম্বর থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল ফোনে গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সুপারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে অকথ্য ভাষায়, গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অডিওতে শোনা যায়, ফোন রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই অপর প্রান্ত থেকে লাগাতার অপ্রকাশযোগ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়, ফলে পুলিশ সুপারকে কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি।
ভিডিওতে থাকা অডিও কথোপকথন সঠিক বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ফেসবুকে একাধিক আইডি ও পেজ থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জেলার একাধিক ব্যাক্তি জানান, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি পুলিশ সুপারের এখতিয়ারভুক্ত না হলেও জেলা জুড়ে পুলিশের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকার কারণে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বাগেরহাট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক এস কে এ হাসিব বলেন, আমি প্যারোলের বিষয়ে জানিনা তবে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
হুমকি ও গালাগালির বিষয় নিশ্চিত করে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, তিনি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন কল পেয়েছেন। কারা এসব করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ এবং ঘরের মেঝে থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
ভোরের আকাশ/মো.আ.