সড়কে উপড়ে পড়েছে গাছ, ভোগান্তিতে নগরবাসী

চট্টগ্রাম নগরের গনি বেকারি এলাকার কাছে অবস্থিত হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সড়কে রাতভর বৃষ্টির পর একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ভোর থেকে ওই এলাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢালুর মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় গাছটির শিকড়ের নিচের অংশ সরে যায়। ফলে গাছটি হেলে পড়ে সড়কের ওপর ঝুলে থাকে। এতে সড়কটি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির বড় একটি ডাল ও কাণ্ডের অংশ সড়কের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে। রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করলেও বড় যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় প্রায়ই মাটি ধস ও গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। তবে জনবহুল সড়কের ওপর এভাবে বড় গাছ ঝুঁকে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত গাছটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন পথচারী বলেন, “সকালে কাজে যাওয়ার সময় দেখি গাছটি সড়কের ওপর পড়ে আছে। ছোট যানবাহন চললেও সবাই আতঙ্ক নিয়ে পার হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গাছটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
চকবাজার থানার ডিউটি অফিসার এএসআই হানিফ জানান, বৃষ্টির কারণে গাছটি উপড়ে পড়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের কিছু অংশ সরিয়ে সীমিত পরিসরে যান চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। গাছের বড় অংশ অপসারণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-কে অবহিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সচিব শওকত হোসেন বলেন, উপড়ে পড়া গাছটি দ্রুত অপসারণ এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৮৯ শতাংশ জমির ওপর পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নগরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয় এবং ২০০৯ সালে এখানে দুই শিফট চালু করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও পাহাড়ি ঢালজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পুরোনো ও বড় গাছ রয়েছে। পরিবেশগত দিক থেকে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও মাটি ক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পাহাড়ি এলাকার গাছ ও ঢালুর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিতকরণ এবং মাটি সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা দ্রুত গাছ অপসারণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য গাছের অবস্থাও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/ইউএম