শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রীপুরে শরবতের সাথে কীটনাশক পান করিয়া হত্যার অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে শরবতের সাথে কীটনাশক পান করাইয়া মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

পাওনাদারের যড়যন্ত্র আর পুলিশের  গাফিলতির কারণে তার মৃত্যু  হয়েছে  বলে  অভিযোগ স্বজনদের। মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কীটনাশক খাওয়ানোর পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুক জ্বালাপোড়া আর বমি করতে করতে পাওনাদারের বাড়ি থেকে বাড়িতে ফেরার পরপরই পুলিশ আটক করে তাকে।এসময়  অসুস্থ মাহবুব আলমসহ গ্রেপ্তার করা হয় বৃদ্ধ বাবা-মাকেও। স্বজনদের অনুরোধ পুলিশের ছেড়ে দিয়ে যায় বৃদ্ধ মা'কে। আটকের পর তাদের নিয়ে দুইঘন্টা ব্যাপী বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে পুলিশ।

এই সময়ে কয়েক দফা বমি করে মাহাবুব। একটু পরপর বমি করলেও কর্নপাত করেনি পুলিশ। ততক্ষণে মাহবুব আলমের সমস্ত শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। থানার হাজতখানায় অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় হাসপাতালে। কিন্ত ততক্ষণে সব শেষ।এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। শত চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি মাহবুবকে। বুদ্ধ বাবা জেলহজতে অসহায় এক পরিবার।

মাহবুব আলমের কবরের পাশে একটু পরপর ছুটে যাচ্ছে তিনবছর বয়সী শিশুকন্যা নুসরাত। দাদা বাবা ঘুমিয়ে আছে। বাবা চল বাড়ি যাই, আমাকে মজা কিনে দিবা না। এমন অনেক কথা বলছে বাবার কবরের পাশে গিয়ে।
এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের বাউনী গ্রামে।

নিহত মো. মাহবুব আলম সুজন (৩২) উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের বাউনী গ্রামের দিনমজুর নূরুল ইসলামের ছেলে।

মাহবুব আলমের বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালে প্রতিবেশী সুরাইয়া বেগমের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা লগ্নি নেন তিনি। সে সময় একটি একপাতা স্ট্যাম্পে ৩০ হাজার টাকা লগ্নি নেওয়ার কথা বলে সই স্বাক্ষর নেন। এর কিছুদিন পর লাভ হিসেবে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন । এই সময়ে ছেলে মাহবুব প্রবাসে ছিলো। তার ওখানে কাজ না থাকায় ৩০ হাজার টাকা লগ্নি করতে হয়েছে। একদিন পাওনাদার সুকৌশলে প্রবাসী ছেলে মাহবুব আলমের মোবাইল নাম্বার নেয়। তার ছেলেকেও বিদেশে পাঠাবে এবিষয়ে পরামর্শ করার জন্য সরল বিশ্বাসে নাম্বার দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তিনি মাহবুব আলমের কাছে জানতে চায় কোন দালালের মাধ্যমে বিদেশে গেলো। মাহবুব সেই দালালের নাম ঠিকানা দেয় তাকে। সেই অনুযায়ী তাদের ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা-পয়সা দেয় দালালকে। টাকা নিয়ে ঘুরাঘুরি করার কারণে হঠাৎ করে সালিসি বৈঠক বসে। আমাকে ডেকে খবর পাঠান গ্রামের মাতব্বরা। মাতব্বরা জানায় মাহবুব নাকি ৪ লাখ ২০ টাকার টাকা নিছে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে। এই বিষয়ে লিখিত করা স্ট্যাম্প রয়েছে। ৩০ হাজার টাকা লগ্নি নিয়েছি এটা বলতেই মাতব্বরা বলে ওঠে আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনার সই স্বাক্ষর রয়েছে। এই নেন স্ট্যাম্পে। এতে তিনি অবাক হয়ে বলেন ৩০ হাজার টাকার স্ট্যাম্প কি করে ৪ লাখের বেশি হয়! ১ পাতার স্ট্যাম্পে কি করে ৩ পাতার হয়? তবুও মাতব্বরদের সব সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেন। সালিসি বৈঠকে ৫৫ হাজার টাকাও তুলে দেন। গত ৫ আগস্ট রাত ১১ টার দিকে বাড়িতে পুলিশ। আপনাদের নামে একটি প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। এই বলে বাবা-ছেলেকে হাতকড়া পড়ায়। আটক করে স্ত্রীকেও। অসুস্থ ছেলেকে ছেড়ে দিতে অনেক অনুরোধ করলেও পুলিশের মন গলেনি।

তিনি জানান, অসুস্থ ছেলেকে থানা কিংবা হাসপাতালে না গিয়ে পুলিশ স্থানীয় বাউনী বাজার, শরীফ বাজার, গোসিঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে সময় নষ্ট করে। যার কারণে আমার ছেলের পুরো শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে থানার হাজতখানায় রাখে। সেখানে বেশ কয়েকবার বমি করে।সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যায় রাত আড়াইটার দিকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ তারিখ ছেলের মৃত্যু হয় ঢাকায়। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পড়ে ছেলের জানাজা নামাজ আদায় করেন তিনি। কয়েকদিন  হলো জামিনে এসেছেন। একটু পরপর শিশু নাতনীটা তার বাবার কবরের পাশে ছুটে যায়। সেখানে গিয়ে বলে দাদা বাবা ঘুমায়। মজা কিনে আনবে। বাবা চল বাড়ি যায়। এমন অনেক কথা বলতে থাকে। এমন কথা শুনে বুকটা ফেটে যায়। ছেলের মৃত্যুর কারণ আমরা জানতে চায়। তাদের বিচার চায় যাঁরা আমার সহজসরল ছেলেকে সুকৌশলে মেরে ফেলছে।

মাহবুব আলমের স্ত্রী বাবলী আক্তার বলেন, গত ৫ আগস্ট রাত ১০ টার দিকে স্বামীকে ফোন করে ডেকে নেন প্রতিবেশী সুরাইয়া বেগম। সঙ্গে তিনিও যান। একপর্যায়ে পানি চাইলে দুই গ্লাস শরবত এনে দেন সুরাইয়া। শরবত খাওয়ার পরপরই বুকে জ্বালাপোড়া যন্ত্রণা শুরু হয়। বাড়িতে প্রবেশ করতেই পুলিশ এসে হাতকড়া পরিয়ে ফেলে। সমান তালে বমি করছেন। অনেক অনুরোধ করলাম তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবুও পুলিশের মায়া হয়নি। মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচানো গেলো না। মেয়েটা বাবার খুবই পাগল একটু সময় না দেখলে ডাকাডাকি শুরু করে। দৌড়ে কবরের পাশে ছুটে যায়। কি বলে শান্তনা দিবো মেয়েকে? ন্যায় বিচারের জন্য গত মঙ্গলবার শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মাহবুব আলমের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, "হঠাৎ করে পুলিশ এসে আমাদেরকে আটক করে৷ আমার অসুস্থ ছেলেটাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে উঠায়। কত করে অনুরোধ করলাম ছেলেটা মারা যাচ্ছে আগে হাসপাতালে নেই। পুলিশ শুনলো না। তাকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে এগুলো বলতেই পুলিশ হাসাহাসি ঠাট্টা মশকরা করে। শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো। কই এখন তো পুলিশ আসে না। বাবা মাটির নিচে ঘুমাচ্ছে। এখন এসে ধরে নিয়ে যাক। আচ্ছা পুলিশ কি মানুষ না?

অভিযুক্ত সুরাইয়া বেগম শিবলী বলেন, মাহবুব আলম বিদেশে থাকা অবস্থায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিছে। টাকা না দেওয়ার কারণে মামলা করছেন। শরবতের সঙ্গে বিষ মেশানোর বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা।

গত বৃহস্পতিবার  দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু নুসরাত বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কবর থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে চোখের জ্বল ফেলছে স্ত্রী বাবলী আক্তার। বৃদ্ধ বাবা-মা ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করে নির্মম এ ঘটনার বর্ণনা করেন।তার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জ্বল। ছোট্ট নুসরাত দাদাকে বলছে বাবা ঘুমায়। বাড়ির উঠানে বসে হাউমাউ করে কান্না করছে তার বোন। প্রতিবেশীরা তাদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রামে ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দিনের ৩৪তম প্রয়াণ দিবসে স্মরণসভা ও সঙ্গীতাঞ্জলি

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সাবরিনা বলেন, ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ২ টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কীটনাশকের কারণে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক ছিলো। তবুও স্বজনদের মুসলেকার পর ওয়াশ করে গাজীপুরে রেফার্ড করা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই এমদাদ হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি মাহবুবসহ তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বয়স বিবেচনায় বৃদ্ধ মহিলা ছেড়ে দেওয়া হয়। রাস্তা ঘুরাঘুরি করে সময় নষ্ট করা হয়নি। সিএনজি চালক পথ ভুল করায় একটু সময় বেশি লাগছে। থানায় আসার অনেক সময় পর সে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায় সে কীটনাশক পান করছে তার অবস্থা ভালো না। পরবর্তীতে সেখানে তাদের এক আত্নীয়ের জিম্মায় দিয়ে চিকিৎসা করতে বলা হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে আসলে সে সুস্থ ছিলো। অসুস্থ হলে মানবিক কারণে একজনের জিম্মায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাকে কীটনাশক খাওয়ানো হয়েছে কিনা এটি আসামি মাহবুব পুলিশকে বলেনি। থানায় অসুস্থ হওয়ার পরপরই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া কীটনাশক পান করে মারা যাওয়া একজন আসামির দাফন হলো কি করে? এমন প্রশ্নের জবাবে কোন সঠিক উত্তর দেননি তিনি।  তিনি আরও জানান, এবিষয়ে মাহবুব আলমের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

হত্যার অভিযোগ

শেয়ার করুন: