ফরিদপুর পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশক নিধন এবং পৌর এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। এর অংশ হিসেবে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার সব ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুর শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেবেলস ইন হোটেল মোড় থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক ইলিয়াছুর রহমান।
মশার বিস্তার রোধ করি, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করি’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উদ্বোধনের পর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মশক নিধন অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে নাগরিকদের সচেতন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ সাহা, প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) এসএম রফিকুল ইসলাম, কনজারভেন্সি পরিদর্শক বিকাশ দত্ত, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুন হোসেন, লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ উদ্দিন আহমেদ ও বাজার পরিদর্শক মোহাম্মদ কাউসার খানসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযান চলাকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে ফরিদপুর পৌরসভায় ১৩টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে শিগগিরই নতুন ফগার মেশিন সংগ্রহ করা হবে। এতে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুত ও কার্যকরভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
কর্মসূচিতে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, পানির ট্যাংক এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, এমন স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার রাখার জন্য এলাকাবাসীকে আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পৌরসভার প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে সুইট হোটেলের পেছনে পৌরসভার জায়গা দখল করে অস্থায়ী বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। এ সময় সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ওই অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান শুরুর পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভার সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো, মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ জন্য পৌর এলাকার সর্বস্তরের নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভোরের আকাশ/ইউএম