পাটুরিয়ায় 'ওয়াইফ টাইপ' দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে সরকার-বিমান মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, বিএনপি'র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষে পাটুরিয়ায়-দৌলতদিয়া ও কাজিরহাট নৌ রুটের ওপর 'ওয়াই টাইপ' সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্নু ক্যাফেটেরিয়া মিলনায়তনে জেলা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমান মন্ত্রী বলেন, পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে একদিকে যেমন দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে, অপরদিকে দেশের পর্যটন খাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত ১৭ বছর মানিকগঞ্জ জেলার কোন উন্নয়ন করেনি। পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রেখেছে রাজধানী অত্যন্ত কাছের এবং সম্ভাবনাময় পর্যটন ঘেরা মানিকগঞ্জ জেলাকে। পিছিয়ে পড়া মানিকগঞ্জ জেলা সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমার নির্ধারিত মন্ত্রণালয়ের রুটিন কাজের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ জেলার কাঙ্খিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। যার ফলশ্রুতিতে মানিকগঞ্জের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাগবে মাত্র পাঁচ মাসেই অপ্রত্যাশিত উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব নিয়েছে ততবার দেশের উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকলে দেশ ও দেশের মানুষের কাঙ্খিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে। ৫ মাসে যার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছে জনগণ।
তিনি আরো বলেন, পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। পর্যটন শুধু অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি একটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম। তাই এ খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ গোলাম নবী। এসময় দেশের সুসময় উন্নয়নে চার্টার অ্যাকাউন্ট ও কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টসদের ভূমিকা তুলে ধরেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এখলাস উদ্দিন, আব্দুল মতিন, ওবায়দুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মতিউর রহমান ও শামসুল হকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সিএ ও সিএমএ পেশাজীবীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা মন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কর্মজীবন কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মন্ত্রী ও উপস্থিত পেশাজীবীদের মধ্যে স্মারক ক্রেস্ট বিনিময় ও নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।
ভোরের আকাশ/এনউব