শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সমুদ্রপাড়ের ৬ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

এর অংশ হিসেবে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। আনা হয় বলডোজার এবং শুরু হয় মাইকিং।

তবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই তাদের দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথমে সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা আরও কিছু সময় চেয়ে আবেদন করেন। সে অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা দোকানপাট সরিয়ে নেন।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য পয়েন্টেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

উচ্ছেদের আগে নিজ দায়িত্বে সরে যাওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, মন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই পয়েন্টে পর্যটকদের কাছে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১১ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এখন মন্ত্রীর সহানুভূতিশীল দৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন।

শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু এর কষ্ট ও বেদনা আমাদের বুকেই থেকে যাচ্ছে। ঈদের ব্যবসার আশায় আমরা অনেকেই ঋণ করে দোকানে পুঁজি দিয়েছিলাম। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

বার্মিজ পণ্যের দোকানদার মুজিব উল্লাহ বলেন, “রমজানজুড়ে আমরা ঈদের বিক্রির আশায় দোকানে মালামাল তুলেছিলাম। এখন সেই পণ্য নিয়েই আমরা বিপাকে পড়েছি। সামনে কীভাবে চলবো সেটাও বুঝতে পারছি না।”

প্রশাসনের এ উদ্যোগে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

ভোরের আকাশ/ র.ই
 

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদজয়নাল আবেদীন

শেয়ার করুন: