প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বৃদ্ধকে হত্যা, তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেরাই ঘরের সিঁধ কেটে সোবহান প্রামাণিক (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি হত্যার ৮ দিন পর পুলিশের তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আজিজ প্রামানিক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গতকাল সোমবার (১৮ মে) আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে আসামী রুহুল আমীন, ফারুক মোল্লা ও হায়দুলকে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানী শেষে বিচারক সুমন ভূইয়া তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই আদালতের জিআরও মাসুদ রানা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের এলংজানি দত্তপাড়া গ্রামের আলী আজগরের ছেলে রুহুল আমীন, একই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ফারুক মোল্লা ও ইসমাইল প্রামানিকের ছেলে হায়দুল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানায়, খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে এলংজানি দত্তপাড়া গ্রামে ঠান্ডু মোল্লা বংশ ও রুহুল প্রামাণিক বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ২০২৩ সালে ঠান্ডু মোল্লার লোকজন প্রতিপক্ষ মোশাররফ প্রমানিক ও তার ছেলে জামাল প্রমানিককে (জোড়া খুন) কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় দায়েরকৃত মামলা আদালতে বিচারাধীন। স্বাক্ষ্য প্রহন চলছে।
এই দুটি হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে আসামীরা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত ১০ মে রাতে বৃদ্ধ আব্দুস সোবাহান (৬০) কে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। প্রতিপক্ষরা ঘরের সিঁধ কেটে তাকে হত্যা করেছে বলে প্রচারনা চালানো হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামীরা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবী করেন। হত্যার ৮ দিন পর পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এরা হলেন, দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামের জীবন হোসেন, আব্দুল আজিজ প্রামানিক, ফারুক মোল্লা, ইমরান হোসেন, আব্দুল হালিম ও রুহুল আমিন।
ভোরের আকাশ/এনউব