হাম : ১৯ দিনে ৯৪ জনের মৃত্যু

বেড়েই চলছে হামে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ দিনে এই উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। বর্তমানে দেশের ৫৬টি জেলায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে শুরুতে সাধারণ জ্বর ও ঠাণ্ডার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ বের হচ্ছে। অনেক অভিভাবক শুরুতে এটিকে সাধারণ মৌসুমি অসুখ মনে করে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ শিশু। এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি শিশুর শরীরে এই রোগের লক্ষণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, বরগুনা, মাগুরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত ১৯ দিনে প্রাণহানির ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে। দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সন্তানদের সুরক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে আসা এক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চারপাশে যে হারে হাম ছড়াচ্ছে, তাতে শিশুদের নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। ঘরে ছোট বাচ্চা থাকলে আতঙ্কটা আরও বেশি কাজ করে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে অন্তত ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়া এবং রোগ শনাক্তে বিলম্ব হওয়ার কারণেই সংক্রমণের মাত্রা ও জটিলতা বাড়ছে। সময়মতো টিকা না নেওয়া বা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসাকেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র