হাম আতঙ্কে দেশ :: উপজেলাতেও চালু করা হবে আইসিইউ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যু বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সময়মতো জরুরি চিকিৎসা ও আইসিইউ সাপোর্ট না পাওয়ায় শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় দেশে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৮ জন এবং উপসর্গে ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮০৫ জন, আর উপসর্গসহ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৫ জনে। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১৪ হাজার ১০৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, টিকাদানে অনিয়ম এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। বিশেষ করে ৯ মাস ও ১৫ মাসে দুই ডোজ টিকা যথাসময়ে না নেওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে।
তারা আরও জানান, দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা নেই বা অপ্রতুল। বিগত সময়ে কিছু হাসপাতালে আইসিইউ কর্নার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়লে সেই সেবা আর কার্যকর থাকেনি।
বর্তমানে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিএনসিসি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের আইসিইউর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি আরও নাজুক। অনেক জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। প্রায় দুই হাজার চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই, কোথাও আবার সার্জন সংকটের কারণে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ চিকিৎসার উচ্চ খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরকারি হাসপাতালের ওপরই নির্ভর করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব জেলায় সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন মেডিসিন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামাল আহমেদ বলেন, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ ও জরুরি কর্নার চালুর একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ও আইসিইউ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



