অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি থাকলে কমবে বিদেশমুখী চিকিৎসা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
দেশে আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত (অ্যাক্রেডিটেড) ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। তবে দেশের ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফলের প্রতি পর্যাপ্ত আস্থা না থাকায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসকেরা একই পরীক্ষা আবারও করাতে বলেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হয়।
তিনি বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দেশেই সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে বিদেশে গিয়ে একই পরীক্ষা পুনরায় করানোর প্রয়োজন কমবে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটির। তাই এ মুহূর্তে কঠোর আইন প্রয়োগের পরিবর্তে ল্যাব মালিক ও পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা যদি বুঝতে পারেন যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখলে মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের ব্যবসাও আরও লাভজনক হবে, তাহলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অ্যাক্রেডিটেশন নিতে আগ্রহী হবেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব না দিলে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো জটিল রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে না।
ভোরের আকাশ/সু.পা



