খাদ্য

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কমলা নাকি কলা বেশি উপকারী

ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকতে ফলের বিকল্প নেই। তবে রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন—কমলা ও কলার মধ্যে কোন ফলটি বেশি উপকারী। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী কিংবা যারা চিনি গ্রহণে সচেতন, তাদের কাছে এই প্রশ্নটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

উভয় ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও পুষ্টিগুণ, কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) ভিন্ন হওয়ায় রক্তে শর্করার ওপর এদের প্রভাবও আলাদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কমলা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) প্রায় ৩৫, যা তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে একটি পাকা কলার জিআই সাধারণত ৪৮-এর কাছাকাছি। ফলে কমলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ে, যেখানে পাকা কলা তুলনামূলক দ্রুত শর্করা বৃদ্ধি করতে পারে।

একটি মাঝারি আকারের কলা (১১৮ গ্রাম) এবং একটি মাঝারি কমলার (১৩১ গ্রাম) পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

ভিটামিন সি: কমলায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে (দৈনিক চাহিদার ৭৭%), যা কলার (১০.৩ মিলিগ্রাম) তুলনায় অনেক বেশি। শর্করার পরিমাণ কম এবং ভিটামিন সি-এর আধিক্যের কারণে কমলা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক।
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: কলায় শর্করার পরিমাণ ২৬.৯ গ্রাম, অন্যদিকে কমলায় তা ১৫.৫ গ্রাম।
ক্যালরি: কলায় থাকে ১০৫ ক্যালরি, যেখানে কমলায় থাকে মাত্র ৬১.৬ ক্যালরি।

কলার গুণাগুণ ও গুরুত্ব
কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিপক্কতা বা কতটা পেকেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পাকা বা কিছুটা সবুজ কলায় 'রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ' নামক এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজে হজম হয় না এবং রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরণের স্টার্চ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে কলা যত বেশি পাকে, তার জিআই তত বাড়তে থাকে এবং তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

কমলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য
কমলায় থাকা সাইট্রাস পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা হেস্পেরিডিন এবং নারিঞ্জিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফল খাওয়ার কিছু কৌশল
আপনি কলা বা কমলা যা-ই পছন্দ করুন না কেন, রক্তে শর্করার প্রভাব কমাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

কলা কিনুন কিছুটা কাঁচা: ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খুব বেশি পাকা কলার চেয়ে কিছুটা কম পাকা বা শক্ত কলা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আস্ত ফল খান, রস নয়: ফলের রস করলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই সব সময় আস্ত ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।
পরিমিত মাত্রা: ফল যত উপকারীই হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খেলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে খান: ফলের সাথে কিছু বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট বা পনির মিশিয়ে খেলে হজম ধীর হয় এবং সুগার স্পাইক বা শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।

কমলা এবং কলা দুটোই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। তবে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কম শর্করার কারণে কমলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়াও সম্পূর্ণ নিরাপদ। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

ভোরের আকাশ/সু.পা

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কমলা নাকি কলা বেশি উপকারী | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ