খাদ্য

সকালে খালি পেটে খেতে পারেন যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার

ছবি: সংগৃহীত

সকালের খাবার সারাদিনের সুস্থতার ভিত্তি তৈরি করে। তবে শুধু পেট ভরে খাওয়াই নয়, দিনের শুরুতে কী খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাবার দিয়ে সকাল শুরু করলে শরীর যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, তেমনি কমে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও। সুস্থ জীবনের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কী খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন—এই তিনটি বিষয়ই শরীরের সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দিনের শুরুতেই স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া জরুরি।

ভেজানো আমন্ড
আমন্ডে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন সকালে তিন থেকে পাঁচটি ভেজানো আমন্ড খাওয়া যেতে পারে। আগের রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খেলে এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে পাওয়া যায়।

মধু ও লেবু মেশানো উষ্ণ পানি
সকালে এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে এক চা-চামচ মধু ও কিছুটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জিরা ভেজানো পানি
থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য জিরা ভেজানো পানি উপকারী হতে পারে। এ জন্য আগের রাতে এক গ্লাস পানিতে জিরা ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে খালি পেটে সেই পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

পাকা পেঁপে
পাকা পেঁপে কম ক্যালোরিযুক্ত ও পুষ্টিকর একটি ফল। সকালে খালি পেটে কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে খেলে হজমে সহায়তা করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কাঁচা আমলকি
ভিটামিন সি-এর অন্যতম ভালো উৎস আমলকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেদ্ধ করার পরিবর্তে সকালে খালি পেটে কাঁচা আমলকি খেলে এর পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়।

ডিম
ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম বা অমলেট রাখা যেতে পারে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ওটসের পরিজ
ওটস ও পাকা কলা দিয়ে তৈরি পরিজ পুষ্টিকর সকালের খাবার হতে পারে। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হজমের জন্যও উপকারী। পরিজ তৈরির জন্য প্রথমে ওটস হালকা ভেজে দুই কাপ পানিতে রান্না করুন। কিছুটা ঘন হয়ে এলে আধা কাপ দুধ যোগ করুন। এরপর দুই চামচ গুড় বা মধু মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। ঠান্ডা হলে ওপরে আমন্ড, কাজু, কলা বা আপেলের কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

মৌসুমি ফল
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতায় মৌসুমি ফল রাখা উচিত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ফল খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়। ফলে থাকা ভিটামিন, ফাইবার ও পানির কারণে এটি শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সকালে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিয়মিত এমন খাদ্যাভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ভোরের আকাশ/সু.পা