স্বাস্থ্য সেবা

চক্ষুস্বাস্থ্য সেবায় বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক সম্মেলনে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মানসম্পন্ন ও সবার জন্য সমতাভিত্তিক চক্ষুস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে চলতি বছর অনুষ্ঠেয় ‘দ্য ২০২৬ গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ’-এ শক্তিশালী জাতীয় অঙ্গীকার উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শসভায় বাংলাদেশের খসড়া অঙ্গীকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সরকারি প্রতিনিধি, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী এবং চক্ষুস্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। তারা প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা কমাতে চক্ষুস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ন্যায়সঙ্গত চক্ষুসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড, আইএপিবির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ইয়ুদ্ধা ধোজ সাপকোটা, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এএসএমএম কাদির, অপথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওএসবি) সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জিন্নু রাইনসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন অংশীদার চক্ষু হাসপাতালের প্রতিনিধিরা। সভাটি পরিচালনা করেন অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ।

সভায় বক্তব্যে পিটার হল্যান্ড বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চোখের যত্নে ১২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হলে তা থেকে ভবিষ্যতে বছরে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে চক্ষুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুস্থ দৃষ্টিশক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পিটার হল্যান্ড জানান, আগামী ২ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ’-এ বাংলাদেশকে কো-হোস্ট হওয়ার আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার সঙ্গে যৌথভাবে সম্মেলনের কো-হোস্ট হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিজেও সম্মেলনে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আইএপিবির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ইয়ুদ্ধা ধোজ সাপকোটা বলেন, গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ হবে এমন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন দেশ চক্ষুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে উচ্চাভিলাষী জাতীয় অঙ্গীকার ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হবে।

সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত খসড়া অঙ্গীকার উপস্থাপন করেন ডা. মুনির আহমেদ। তিনি জনকেন্দ্রিক চক্ষুসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রিফ্র্যাকটিভ এরর, প্রেসবায়োপিয়া, ছানি, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, গ্লুকোমা এবং শিশুদের চক্ষুরোগের চিকিৎসায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রস্তাবিত অঙ্গীকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২ কোটি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া।

এছাড়া জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল, ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশন, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, সাইটসেভার্স, সিবিএম গ্লোবাল, ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ডা. কে. জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, অধ্যাপক মতিন বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, ডিপ আই কেয়ার এবং এসিলর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

চক্ষুস্বাস্থ্য সেবায় বিনিয়োগ বাড়াতে বৈশ্বিক সম্মেলনে যাচ্ছে বাংলাদেশ | স্বাস্থ্য কথা