চট্টগ্রামে পিআইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্টসহ জটিল উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সময়মতো পিআইসিইউ না পাওয়ায় একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ ভর্তি থাকা সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী শিশু মিশকাতুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে পিআইসিইউ সংকটের মধ্যেই। হাসপাতালে ভর্তির এক দিনের মাথায় তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে আসে। জরুরি ভিত্তিতে পিআইসিইউ প্রয়োজন হলেও কোনো শয্যা খালি না থাকায় যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।
শুধু মিশকাতুরই নয়, একই ধরনের পরিস্থিতিতে আরও অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের জন্য সরকারি পর্যায়ে কার্যত একমাত্র ভরসা চমেক হাসপাতালের সীমিত পিআইসিইউ শয্যা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু বিভাগের মোট ২০টি পিআইসিইউ শয্যার মধ্যে ১৫টি হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি শয্যাগুলো অন্যান্য রোগীর জন্য নির্ধারিত। তবে রোগীর চাপ এত বেশি যে প্রতিদিনই ৮০ থেকে ৯০ শিশু ভর্তি থাকছে ৫০ শয্যার নির্ধারিত হাম ব্লকে। ফলে একটি শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ জন শিশুর পিআইসিইউ প্রয়োজন হলেও শয্যা সংকটের কারণে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত কয়েক দিনে এই সংখ্যা আরও বেড়ে কয়েকশতে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে দুই হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে শতাধিক এখনো চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে পিআইসিইউ না পাওয়ায় অনেক পরিবার বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানেও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, “রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। যেসব শিশু তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয় বা দুর্ভাগ্যবশত মারা যায়, তখনই একটি শয্যা খালি হয়। কিন্তু তাতেও দ্রুত নতুন রোগী আসায় সংকট কাটছে না।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, সময়মতো পিআইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা সম্ভব হতো। একাধিক পরিবার অভিযোগ করেছে, শয্যার অভাবে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় তাদের সন্তানদের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের এই ব্যাপক বিস্তার এবং নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের সীমিত সক্ষমতা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে পিআইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



