এডিসের লার্ভার ঘনত্ব উদ্বেগজনক, বাড়ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সোমবার (২৯ জুন) চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার দুজন, চট্টগ্রামের দুজন এবং ময়মনসিংহের একজন রয়েছেন।
এদিকে, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। গত কয়েক বছরের মতো এবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত গাইডলাইন রয়েছে, যা উপজেলা থেকে শুরু করে সব হাসপাতালেই অনুসরণ করা সম্ভব। তবে রোগীকে অবশ্যই প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসার আওতায় আসতে হবে। কারণ রোগের অবস্থা জটিল হয়ে আইসিইউ প্রয়োজন হলে দেশের সব হাসপাতালে সেই সুবিধা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সিটি করপোরেশনের ফগিং কার্যক্রম দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জীনতত্ত্ববিদ ড. খন্দকার আশফাকুল মুঈদ বলেন, এডিস অ্যালবোপিক্টাস প্রজাতির মশাও ডেঙ্গু ছড়াতে সক্ষম। এই মশা শুধু পরিষ্কার পানিতে নয়, ময়লা পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে। গবেষণায় বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংকসহ বিভিন্ন স্থানে এ মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কার্যকর নতুন কীটনাশক বা প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক বিকল্প নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক ২০-এর বেশি। এডিসের ঘনত্ব, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস মডেলে দেখা যাচ্ছে, আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশের কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারি টাস্কফোর্সের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



