স্বাস্থ্য সেবা

টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাম রাতের অন্ধকারে দৈত্যের মতো আমাদের আক্রমণ করে

ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে দৈত্যের মতো হঠাৎ করে হাম আমাদের আক্রমণ করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রাতের অন্ধকারে দৈত্যের মতো হঠাৎ করে আমাদের ওপর মিজেলস (হাম) আক্রমণ করে। তবে আমরা গ্যাভি ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আল্লাহর রহমতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হামের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও আমরা এই কার্যক্রম শুরু করছি। আমার বিশ্বাস, আগামী ছয় মাস ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনে সঠিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে মিজেলস (হাম) থেকে আমরা স্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে পারব। সিটি কর্পোরেশনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনারা যদি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে এই কর্মসূচি অবশ্যই সফল হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন কাজপাগল মানুষ। তিনি কাজকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিয়মিত হামের পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, টিকার মজুত কতটুকু এবং চলমান টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, একজন হাম আক্রান্ত রোগী ১৮ জন পর্যন্ত ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। এ কারণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইসোলেশন। এ লক্ষ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদেরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তা উদ্বেগজনক। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এরইমধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। গণমাধ্যম যদি অভিভাবকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়, তাহলে এই সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সময়মতো টিকা দেওয়াই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, বিগত সরকারের অবহেলার কারণে আজ হামের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে সিটি কর্পোরেশনের রুটিন কার্যক্রমও সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি, যার ফলে বর্তমানে কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারব। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে শুরু হওয়া হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সন্তানদের টিকা দিয়ে হামের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখুন।

উল্লেখ্য, রোববার থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচি আগামী ১২ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিটি কর্পোরেশন। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে ৫৪০টি কেন্দ্রে এ টিকা দেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

হাম রাতের অন্ধকারে দৈত্যের মতো আমাদের আক্রমণ করে | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ