ক্যানুলা ও নাকে নল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন ও খাবার
হামের তীব্র আঘাতে বিপর্যস্ত শিশুস্বাস্থ্য

ছবি: সংগৃহীত
মুন্সিগঞ্জের অটোচালক আবু সাইদের সাত মাস বয়সী সন্তান ইউসুব নিউমোনিয়া নিয়ে ২৪ দিন আগে ভর্তি হয় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। কিছুটা সুস্থতার পথে থাকতেই হাসপাতালেই তার শরীরে ধরা পড়ে হাম। এরপর থেকেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। বর্তমানে ইউসুবের মাথায় ক্যানুলা, এক নাকে অক্সিজেন, অন্য নাক দিয়ে নলের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছে। পুরো শরীরে হামের র্যাশ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে জরুরি আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও বেড সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।
শিশু হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের সামনে দাঁড়িয়ে সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন জাকির হোসেন। মাত্র পাঁচ দিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে তার ছয় মাসের যমজ সন্তানের একজন রিসা আইসিইউতে মারা যায়। অন্য সন্তান রুহি এখনো আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। একই ওয়ার্ডে দুই মাস বয়সী আয়মানও তীব্র শ্বাসকষ্টে কাতর। নাকে নল ও ক্যানুলা লাগানো অবস্থায় তার কান্না থামছে না। শিশুটির মা জানান, মুখে ঘা থাকায় খাওয়ানো যাচ্ছে না, শ্বাস নিতে ও ক্যানুলা নড়লে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে।
মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সাত মাস বয়সী জান্নাতি শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তার হাতে ক্যানুলা থাকায় ফুলে গেছে এবং অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে হামের জন্য মাত্র ৮টি বেড থাকলেও বর্তমানে পুরো পঞ্চম তলা হামের রোগীতে পূর্ণ করা হয়েছে। এরপরও রোগীর চাপ এত বেশি যে বেডের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি শিশু ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৭৫টির বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে। আইসিইউ ইউনিটের ১৪টি বেডই পূর্ণ, নতুন গুরুতর রোগী নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে অনেক শিশুই প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নাকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া হয়, যাতে খাবার শ্বাসনালীতে গিয়ে ঝুঁকি না বাড়ায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে নিশ্চিতভাবে ৩০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সন্দেহভাজন মৃত্যুসহ এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৬ জনে। একই সময়ে ২ হাজার ৭২১ জন নিশ্চিতভাবে এবং প্রায় ১০ হাজার ৯৫৪ জন সন্দেহভাজনভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ।
টিকাদানে সরকারী বিশেষ কর্মসূচি : সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। টিকা গ্রহণের বয়সসীমা ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় প্রায় ১২ লাখ শিশুকে প্রথম ধাপে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ শিশুকে কভার করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



