চিকিৎসক

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ, কখন সতর্ক হবেন

ছবি: সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে। তবে পাথরটি যখন মূত্রনালির দিকে নামতে শুরু করে বা মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তীব্র ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ কোমর বা শরীরের পাশের অংশে ব্যথা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, বমি বমি ভাব কিংবা বমি—এসব লক্ষণ কিডনিতে পাথর থাকার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।

কিডনিতে পাথর কী?
কিডনিতে পাথর হলো বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও লবণ জমে তৈরি শক্ত পদার্থ। প্রস্রাবে এসব উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে গেলে ধীরে ধীরে সেগুলো জমাট বেঁধে পাথরের আকার নিতে পারে। পাথর ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের হতে পারে। ছোট পাথর অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে বড় পাথর মূত্রনালিতে আটকে গেলে প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

প্রস্রাবের রং বদলে যাওয়া
কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের রং ও ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। প্রস্রাব গাঢ় বা লালচে হয়ে যেতে পারে। পাথরের কারণে প্রস্রাবে রক্ত মিশলে এমনটা হতে পারে। আবার বিভিন্ন খনিজ বা লবণের ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতিতে প্রস্রাব ঘোলা দেখাতে পারে। তবে প্রস্রাবের রং পরিবর্তনের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই শুধু এই লক্ষণ দেখে কিডনিতে পাথর হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

কোমর ও শরীরের পাশে তীব্র ব্যথা
কিডনিতে পাথরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো পাঁজরের নিচে শরীরের পাশের অংশে তীব্র ব্যথা। পাথরটি মূত্রনালির মধ্য দিয়ে নিচের দিকে নামার সময় ব্যথা কখনো বাড়তে আবার কখনো কমতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কোমর থেকে তলপেট বা কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব কিংবা বমিও হতে পারে।

কীভাবে শনাক্ত হয় কিডনির পাথর?
কিডনিতে পাথর শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা সিটি স্ক্যান করা হতে পারে। পাথরের আকার ও অবস্থান, মূত্রপ্রবাহে বাধা তৈরি হয়েছে কি না এবং সংক্রমণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করেই চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করা হয়। ছোট পাথর অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর মূত্রনালিতে আটকে গেলে তা অপসারণের জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
কোমর বা শরীরের পাশের অংশে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন কিংবা প্রস্রাব ঘোলা হয়ে যাওয়া কিডনিতে পাথরের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, বমি বা প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
তীব্র বা একটানা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, শরীর কাঁপা বা শীত শীত অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাথরের কারণে মূত্রপ্রবাহে বাধা তৈরি হলে এর সঙ্গে সংক্রমণও থাকতে পারে, যা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তীব্র ব্যথার পাশাপাশি প্রস্রাব করতে সমস্যা, বারবার বমি, জ্বর বা কাঁপুনি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ভোরের আকাশ/সু.পা

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ, কখন সতর্ক হবেন | স্বাস্থ্য কথা