স্বাস্থ্য সেবা

কঙ্গো ও উগান্ডার ইবোলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি) ও উগান্ডায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১০৭ মিলিয়ন ডলারের (১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার) জরুরি তহবিল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্থাটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, চলমান এই প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম ইবোলা সংকটে পরিণত হয়েছে। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগটির বিস্তার রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমানে বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনও কম রয়েছে।

সিডিসির ইবোলা প্রতিরোধ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ড. সতীশ কে. পিল্লাই সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ডিআরসির ৩১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছাতে চলেছে। অন্যদিকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ জন।” তিনি জানান, রোগটির উৎস ও বিস্তার তদন্তে সিডিসির ২৩ জন মাঠকর্মী কাজ করছেন। এছাড়া ডিআরসি ও উগান্ডায় সংস্থাটির মোট ১২৫ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। বিশ্বকাপ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর সঙ্গে সিডিসি সপ্তাহে দুইবার করে সমন্বয় বৈঠক করছে বলেও জানান তিনি।

প্রায় এক মাস আগে ডিআরসির পশ্চিমাঞ্চল ও উগান্ডার পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘বুন্দিবুগিও ভাইরাল ডিজিজ’ (বিভিডি) নামে পরিচিত ইবোলার একটি বিরল প্রাণিবাহিত প্রজাতির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গো ও উগান্ডায় এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ছিল।

আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে রূপ নিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, রোগটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা ও পূর্ব কঙ্গো অঞ্চলে। ওই সময় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং প্রাণ হারান প্রায় ১১ হাজার মানুষ।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন পর্যন্ত ডিআরসিতে ৮৩৭ জন এবং উগান্ডায় ১৯ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এ দুই দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিআরসি ও উগান্ডায় ঝুঁকি বেশি থাকলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। কোভিড-১৯ বা হাম রোগের মতো ইবোলা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শারীরিক নিঃসরণ বা দূষিত বস্তু ও পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এলে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হয়।

তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২২টি দেশ ইতোমধ্যে ডিআরসি ও উগান্ডা থেকে আগত ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে আফ্রিকার স্বাস্থ্য নেতারা জানিয়েছেন, ইবোলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ৯১০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ১০ শতাংশেরও কম অর্থ হাতে এসেছে।

ভোরের আকাশ/সু.পা