ক্যান্সার অনুদানের টাকা ফেরত ঠেকাতে বিতরণে তৎপরতা

ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্সারসহ ছয় ধরনের অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে এককালীন ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে থাকে সরকার। তবে এই সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। গত অর্থবছরেও প্রায় ৬০ লাখ টাকা রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি বলে ফেরত গেছে।
এবার অনুদানের অর্থ ফেরত যাওয়া রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ক্যান্সার রোগী আব্দুল জলিল জানান, তিন বছর ধরে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এ পর্যন্ত তার চিকিৎসা ব্যয় ১২ লাখ টাকারও বেশি হয়েছে। কেমোথেরাপি নিতে হাসপাতালে এসে এক নার্সের মাধ্যমে সরকারি অনুদানের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এর আগে এ ধরনের সহায়তার বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না।
হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীমা নাসরীন জানান, ২০২৫ অর্থবছরে ক্যান্সার রোগীদের অনুদান দেওয়ার জন্য ৯ কোটি টাকার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে তিন কিস্তিতে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এই অর্থ দিয়ে ১ হাজার ৩৫০ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৫০০ জন রোগীর কাছে অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ৪০০ জনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে। বাকি রোগীদের আবেদন সংগ্রহের জন্যই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
শামীমা নাসরীন আরও জানান, মোট বরাদ্দের মধ্যে আরও ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা চতুর্থ কিস্তিতে পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ ছাড় হলে সেটিও রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অর্থবছরের শেষ সময়ে হলেও কিছু অর্থ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, জনবল সংকট এবং প্রচারণার অভাবের কারণে অনেক রোগীর কাছে সময়মতো অনুদানের তথ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকেই সরকারি সহায়তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দকৃত অর্থ যেন রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় আবেদন সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অতীতের মতো যাতে অর্থ ফেরত না যায় এবং প্রকৃত রোগীরা সহায়তা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



