বাজেটে ওষুধশিল্প উদ্যোক্তাদের স্বস্তি
ওষুধ শিল্পে উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ওষুধ শিল্পের প্রসারে সরকারের বড় ধরনের কর ছাড় ও শুল্ক সুবিধার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, ক্যানসারের ওষুধসহ মোট ৭৭টি কাঁচামাল আমদানিতে কর শূন্য করার উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। এর ফলে ক্যানসারের ওষুধের দাম কমবে এবং স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল (এপিআই) উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গ্যাস সংযোগ সচল করা এবং আমদানির কিছু প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেটে ওষুধ খাতের কাঁচামাল বা এপিআই (Active Pharmaceutical Ingredients) শিল্পের প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, “বাজেটে এপিআই শিল্পের জন্য যে কর ছাড় ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। সরকার আমাদের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে, যা প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, কাঁচামাল তৈরি থেকে শুরু করে নিবন্ধন ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত একাধিক ধাপ পার হতে হয়, তাই এটি প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ। বাজেটের এই সুবিধাকে গবেষণা ও উৎপাদনে কাজে লাগাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে রিএজেন্ট ও ইন্টারমিডিয়েট আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত চালুর ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম শামীম বলেন, ক্যানসারের ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে এসব ওষুধের দাম কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। তবে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও শ্বাসযন্ত্রের ওষুধের কাঁচামালেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, এপিআই উৎপাদনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো গ্যাস সংযোগ এবং সলভেন্ট ও অ্যাসিড আমদানির জটিলতা। এগুলো সহজ না হলে উৎপাদন প্রত্যাশিতভাবে বাড়বে না।
রপ্তানি খাত নিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানিযোগ্য ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক রেয়াত দেওয়া ইতিবাচক হলেও রপ্তানি প্রণোদনা ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা উচিত।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কবির হোসেন বাজেটের এ পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ক্যানসারের ওষুধে ভ্যাট শূন্য হওয়ায় রোগীরা কম দামে এসব ওষুধ পাবে।
বাজেটে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসার চিকিৎসার নতুন ৯টি ওষুধের কাঁচামাল এবং রপ্তানিযোগ্য আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে দেশের ওষুধ শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



