সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা লেবেল চালুর দাবি

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত “বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কর্মশালাটি আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), সহযোগিতায় ছিল গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৯ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাট থাকে, যা স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে ঘটে। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বক্তারা জানান, দেশে বছরে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। এর একটি বড় অংশ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। তবে প্যাকেটের পেছনের জটিল পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বোঝা কঠিন হওয়ায় তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এ কারণে প্যাকেটের সামনে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা লেবেল চালু করা জরুরি।
বিশ্বের ৪৪টি দেশে এ ধরনের লেবেলিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ কমেছে এবং জনসচেতনতা বেড়েছে বলে জানান বক্তারা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, সরকার এফওপিএল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি সামিনা ইসরাত বলেন, এই উদ্যোগ দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে সহায়ক হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে, পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত ও সরকারি ব্যয়ও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে চাপ অব্যাহত রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।



