স্বাস্থ্য সেবা

অতিরিক্ত মিষ্টিতে লোপ হতে পারে শিশুর বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি শিশুদের শুধু দাঁতের ক্ষতিই করে না, বরং তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণা সংস্থার মতে, শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য চিনি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব শিশুর মস্তিষ্কে
শিশুর বেড়ে ওঠার সময় মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময় খাদ্যাভ্যাস সরাসরি তার মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। প্রতিদিন অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার গ্রহণ করলে তা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা
অতিরিক্ত চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায় এবং পরে হঠাৎ কমে যায়। এই ওঠানামা শিশুর মনোযোগ, মুড ও শেখার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রদাহ ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম
দীর্ঘদিন বেশি চিনি গ্রহণ শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি শিশুদের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে এবং মনোযোগের স্থায়িত্ব হ্রাস করে।

আচরণে পরিবর্তন
চিনি বেশি খাওয়ার পর অনেক শিশু অস্থির, খিটখিটে বা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যা তাদের দৈনন্দিন আচরণ ও শেখার পরিবেশকে প্রভাবিত করে।

দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের ঝুঁকি
ছোটবেলায় অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে তা বড় হয়েও থেকে যায় এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অভিভাবকদের করণীয়
প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন ক্যান্ডি, প্যাকেটজাত জুস ও সিরিয়ালে লুকানো চিনি বেশি থাকে—এসব কমানো উচিত। এর পরিবর্তে ফলমূলের মতো প্রাকৃতিক খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

সুষম খাদ্য ও নিয়মিত অভ্যাসের গুরুত্ব
কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত করে খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, জার্নাল অব নিউট্রিশন

ভোরের আকাশ/সু.পা

অতিরিক্ত মিষ্টিতে লোপ হতে পারে শিশুর বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ