স্বাস্থ্য সেবা

রক্তদানের পর প্লাজমা ও রক্তকণিকা কীভাবে ফিরে আসে?

ছবি: সংগৃহীত

রক্তদান একটি মানবিক ও জীবনরক্ষাকারী কাজ। অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত জটিলতা কিংবা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন হয়। অনেকেই প্রথমবার রক্ত দিতে গিয়ে ভয় বা দ্বিধায় ভোগেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ একজন মানুষের জন্য রক্তদান সম্পূর্ণ নিরাপদ। রক্ত দেওয়ার পর শরীর খুব দ্রুতই হারানো রক্তের ঘাটতি পূরণের কাজ শুরু করে।

প্লাজমা দ্রুত পূরণ হয়
রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা সবচেয়ে আগে পুনরুদ্ধার হয়। সাধারণত রক্তদানের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্লাজমার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ সময় শরীরের বিভিন্ন টিস্যু থেকে তরল রক্তনালীতে প্রবেশ করে, যা রক্তচাপ ও স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন বজায় রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম জমা থাকা প্রোটিন ও তরল আবার রক্তে ফিরিয়ে আনে।

কিডনি ও লিভার সক্রিয় হয়ে ওঠে
রক্ত দেওয়ার পর শরীর পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিডনি এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মস্তিষ্কের সংকেতের কারণে তৃষ্ণা বেড়ে যায়, ফলে রক্তদাতা বেশি পানি পান করেন। অন্যদিকে লিভার নতুন করে প্লাজমা প্রোটিন, বিশেষ করে অ্যালবুমিন তৈরি শুরু করে, যা পূর্ণমাত্রায় ফিরতে ২৪ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগতে পারে।

নতুন রক্তকণিকা তৈরি শুরু হয়
প্লাজমা দ্রুত পূরণ হলেও লোহিত রক্তকণিকা (রেড ব্লাড সেল) সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা (প্লেটলেট) তুলনামূলক দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়। রক্তদানের পরপরই অস্থিমজ্জা নতুন রক্তকণিকা তৈরির কাজ শুরু করে এবং কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব উপাদানের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়ে যায়।

কেন ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা লাগে?
রক্তদানের পর কিছু মানুষের সাময়িকভাবে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে ভ্যাসোভ্যাগাল রিফ্লেক্স বলা হয়। এ সময় হৃদস্পন্দন কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে কমে যায়।

প্রথমবার রক্তদাতা, তরুণ বয়সী ব্যক্তি, যাদের শারীরিক গঠন তুলনামূলক ছোট কিংবা যারা পর্যাপ্ত পানি পান করেননি বা খালি পেটে রক্ত দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে।

রক্তদানের পর যা করবেন
রক্তদানের পর দ্রুত সুস্থ হতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা উচিত—

পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন।
হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খান।
কয়েক ঘণ্টা ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
পরবর্তী কয়েক দিন আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন কলিজা, লাল মাংস, ডাল, পালং শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব করলে বসে বা শুয়ে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, লিভার ও অস্থিমজ্জার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে রক্তদানের পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই সুস্থ ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। একই সঙ্গে তার দেওয়া রক্ত অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভোরের আকাশ/সু.পা

রক্তদানের পর প্লাজমা ও রক্তকণিকা কীভাবে ফিরে আসে? | স্বাস্থ্য কথা