স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারি হাসপাতাল শক্তিশালী করার দাবি নিহাচ সভাপতির

ছবি: সংগৃহীত
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ (নিহাচ)-এর সভাপতি ফারুক আহমেদ শাহেদ (এফ এ শাহেদ)। শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, শয্যার স্বল্পতা, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধের ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ভুগছে। এর ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ফারুক আহমেদ শাহেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা ব্যবহারের হার গড়ে ১১১ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝে কিংবা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একইভাবে জেলা হাসপাতালগুলোতেও শয্যা সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
তিনি আরও বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ শত শত চিকিৎসা যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রায় ৮৮০টি এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন বিকল রয়েছে। এসব যন্ত্র দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নিহাচ সভাপতি বলেন, শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, রোগীদের হয়রানি এবং চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও দুর্বল করে তুলছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সরকারি উদ্যোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
ফারুক আহমেদ শাহেদ বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, অচল যন্ত্রপাতি সচল করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলা থেকে জেলা—সব স্তরের সরকারি হাসপাতালকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। কারণ শক্তিশালী সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছাড়া সবার জন্য সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।



