ট্যানারি ফিড খাওয়া মুরগি ও মাছে আছে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত
ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি মুরগি ও মাছের খাদ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এসব খাদ্য গ্রহণকারী মুরগি ও মাছে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি রোগসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হতে পারে। বুধবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে তৈরি মুরগি ও মাছের খাদ্য ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায় কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
তিনি জানান, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম খরচে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনের জন্য এসব বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করেন। ফলে ওই খাদ্য খাওয়া মুরগির মাংস ও ডিমে ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা রান্নার উচ্চ তাপমাত্রাতেও ধ্বংস হয় না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বিষাক্ত উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি বিকলের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”
এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
মন্ত্রী জানান, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শিল্পবর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে পোলট্রি ফিড উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে র্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, এসব অভিযানে অনেক অবৈধ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি পোলট্রি ফিডের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট
একই দিনে সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যখাতের জনবল পরিস্থিতির তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে। নার্সের ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি এবং অন্যান্য কর্মচারীর ২৬ হাজার ৫৪৪টি পদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮৪টি পদ খালি।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৭ হাজার ৪২৯ জন। ফলে ৫ হাজার ৭৮২টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা



