স্বাস্থ্য সেবা

যে ধরনের খাবার খাবেন পিসিওএস রোগীরা

ছবি- ভোরের আকাশ

পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হলো নারীদের এক ধরনের হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা। যার কারণে ওভারিতে ছোট ছোট সিস্ট, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্বসহ শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আসুন জানা যাক পিসিওএস রোগীদের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত—

পিসিওএস একজন নারীর দেহে নানাভাবে প্রভাব ফেলে: পিসিওএস একটি মেটাবলিক এবং হরমোনাল ডিসঅর্ডার, যা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারীকে প্রভাবিত করে। ধারণা করা হয় সন্তান ধারণ ও প্রজনন বয়সের ১০ জন নারীর মধ্যে একজন নারীর পিসিওএস আছে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে নারীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি, সন্তান জন্মদানে সমস্যাসহ বিভিন্ন হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়।

ফলে নারীদের মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়, ডিম্বাশয় অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করে, উর্বরতার সমস্যা দেখা দেয়, অস্বাভাবিক লোম বৃদ্ধি, চুল পড়া ও ডার্ক স্পটিং হয়; সেই সঙ্গে মুড সুইং, ডিপ্রেশন, প্রদাহ, গাট হেলথ সমস্যাসহ নানান সমস্যা দেখা দেয়, যা একজন নারীকে শারীরিকের পাশাপাশি মানসিকভাবেও অসুস্থ করে তোলে। এটা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত হলে পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভার, টাইপ-টু ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য নানা মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

পিসিওএস-এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কমাতে, সেই সঙ্গে রোগটির জটিলতা কমাতে একটি সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তে শর্করা, ইনসুলিন এবং হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া নারীদের উর্বরতা উন্নত করতে, প্রদাহ কমাতে এবং ওজন হ্রাস করতেও সাহায্য করে।

পিসিওএস রোগীর খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তবে এটা নির্ধারণ করতে হয় তার পিসিওএসের ধরণ দেখে। কারো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা থাকতে পারে, কারো ওজন বেশি, কারো প্রদাহজনিত সমস্যা, কারো আবার ফার্টিলিটির সমস্যা থাকতে পারে।

পিসিওএস-এর সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলো শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করলেও তা ব্যবহার করতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে টাইপ-টু ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিনড্রোম, ঘুমের মান খারাপ, পুষ্টিশোষণ কম হওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে কম গ্লাইসেমিক সূচক খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।

পিসিওএস রোগীদের জটিল বা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে উপকার পাওয়া যায়। যেমন আস্ত শস্যদানা, বাদামী চাল, লাল চিড়া, যব, ওটস, কিনোয়া ইত্যাদি।

ফাস্টফুড, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোর বেশিরভাগে ক্যালরি ও চর্বি পরিশোধিত হয়—যা শরীরের ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন স্পাইক, হরমোনের পরিবর্তন ও প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এগুলো পিসিওএস রোগীর ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

পিসিওএস রোগীদের খাদ্যতালিকা তৈরি করতে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্যই লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ খাবার, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, উচ্চ প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সিম্পল কার্বোহাইড্রেট, ভাজাপোড়া খাবার, আনহেলদি খাবার বাদ দিতে হবে।

পিসিওএস-এর কারণে হরমোনের পরিবর্তন হলে খাদ্যাভ্যাস যেভাবে সাহায্য করতে পারে তা হলো—পিসিওএস রোগীদের হরমোন পরিবর্তনের কারণে নানা শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়। কোন ধরনের হরমোনের সমস্যা সেই অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট দিতে হবে। তবে সার্বিকভাবে সুষম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা উচিত। যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করে, ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন হরমোন ব্যালেন্স করে। ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি স্ট্রেস কমাতে, ঘুম ঠিক করতে এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল ফাংশন বাড়াতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

ভোরের আকাশ/সু.পা

যে ধরনের খাবার খাবেন পিসিওএস রোগীরা | স্বাস্থ্য কথা | ভোরের আকাশ