মিডিয়া ও আলেমদের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন রুহুল আমিন সাদী

গণমাধ্যমের ভূমিকা, সংবাদ উপস্থাপনা এবং আলেম সমাজের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও গবেষক রুহুল আমিন সাদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দেওয়া এক পোস্টে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কার একটি ব্যঙ্গাত্মক গল্প তুলে ধরেন। গল্পে একজন সাংবাদিক বাবা তার ছেলেকে বলেন, ‘কেউ মিথ্যা কথা বললেই মোরগ ডেকে ওঠে।’ এরপর ছেলে প্রশ্ন করে, ‘তাহলে খুব ভোরে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন একসঙ্গে এত মোরগ ডাকে কেন?’ জবাবে বাবা বলেন, ‘কারণ তখন দৈনিক প্রাভদা ও ইজভেস্তিয়া (পত্রিকা) ছাপা হয়।’
এই গল্প উদ্ধৃত করে রুহুল আমিন সাদী লেখেন, পত্রিকার সব খবর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করাই উত্তম।
এর আগে ১৩ জুলাই দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল আলেমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবর প্রচারে সক্রিয় থাকলেও বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তাদের মানবিক কার্যক্রম নিয়ে কোনো প্রচার করে না।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, করোনা মহামারির সময় দাফন-কাফনের কাজ, সিলেট, ফেনি ও চট্টগ্রামের বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে আলেম সমাজ ও তৌহিদবাদী জনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসে না।
রুহুল আমিন সাদীর মতে, আলেমদের উদ্যোগ তুলে ধরার মতো শক্তিশালী নিজস্ব গণমাধ্যমের অভাব রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যারা আলেমদের সমালোচনা করেন, তারা দুর্যোগের সময় তেমন কোনো কার্যক্রমে অংশ নেন না; কিন্তু প্রচারণার মাধ্যমে আলেম ও মাদ্রাসাকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আপনি ভালো না খারাপ, সেটি যতটা না গুরুত্বপূর্ণ; তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মিডিয়া আপনাকে কীভাবে তুলে ধরছে। মানুষ অনেক সময় সেটিই বিশ্বাস করে।’
ভোরের আকাশ/এনএ