জামায়াতকে ঘিরে বিতর্ক থামছেই না! কেন বারবার আলোচনায় দলটি?

জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিকভাবে এটি দলটির জন্য বড় অর্জন। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি একের পর এক বিতর্কও যেন পিছু ছাড়ছে না দলটির।
সবশেষ আলোচনার কেন্দ্রে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিওকাণ্ড। ভিডিও প্রকাশের পর প্রথমে সেটিকে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে জামায়াত। পরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নেয় দলটি।
এর আগে কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মানহানির মামলা, বাজেট নিয়ে ভুল তথ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপির সংসদে বিতর্কিত দাবি, নীলফামারী-৪ আসনের এমপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বক্তব্য এবং নড়াইল-২ আসনের এমপির ঐচ্ছিক তহবিল বিতর্ক—এসব ঘটনাও দলটিকে সমালোচনার মুখে ফেলে।
শুধু তাই নয়, রাজধানীতে জামায়াতের কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়েছিল দলটিকে।
এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো—হেফাজতে ইসলাম ও কওমি অঙ্গনের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু, নির্বাচন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য ও পরোক্ষ মতপার্থক্য একাধিকবার সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কওমি অঙ্গন একক কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না; বিভিন্ন আলেম ও সংগঠনের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার পর দ্রুত সম্প্রসারণ, নতুন নেতৃত্বের আগমন এবং জনদৃষ্টিতে থাকার কারণে দলটির প্রতিটি ঘটনাই এখন বেশি আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, ব্যক্তিগত পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা নয়, আদর্শ, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এখন দেখার বিষয়, ধারাবাহিক এসব বিতর্ক কাটিয়ে দলটি তাদের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা ধরে রাখতে পারে।
ভোরের আকাশ/এনএ