সিএনএনের প্রতিবেদন
বিপ্লবে জিতেছে জেন-জি, কিন্তু নির্বাচনে আধিপত্য পুরোনো রাজনীতিবিদদেরই

আর মাত্র দু’দিন বাকি, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এবারকার নির্বাচনকে বিশেষ ও অন্য যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনতার আন্দোলন সাবেক স্বৈরাচারী নেতা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে জেন-জির শক্তিকে জয়ী করেছে। তবে এই নির্বাচনে এখনও পুরনো রাজনৈতিক শক্তিই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সিএনএন আরও উল্লেখ করেছে, সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মধ্যে হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার দৃশ্য এবং জনতার তার বাড়িতে যাওয়া বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ধাক্কা দিয়েছিল। এই ঘটনাকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেপাল ও মাদাগাস্কারের যুব সমাজও তাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
কিন্তু বাংলাদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরুণরা বিপ্লব ঘটালেও যে দুজন সম্ভাব্য প্রার্থী পরবর্তী বাংলাদেশকে নেতৃত্বে দিতে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে সেই তরুণদের পার্থক্য অনেক বেশি।
সংবাদমাধ্যমটি বিএনপির ৬০ বছর বয়সী চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৭ বছর বয়সী আমির ড. শফিকুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
সিএনএন সাদমান মুজতবা নামে এক বিক্ষোভকারীর কথা উল্লেখ করেছে। যিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, বিপ্লবের পর যে পরিবর্তন ও সংস্কারের আশা তারা করেছিলেন, তার কিছুই হয়নি। তিনি বলেছেন, “আমরা এমন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে লিঙ্গ, বর্ণ, ধর্মসহ সবকিছুর ওপর সবাই একইরকম সুবিধা ভোগ করবে। আমরা নীতি পরিবর্তন এবং সংস্কার প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু আমরা এ নিয়ে যেসব স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেগুলো পূরণ হওয়ার ধারেকাছেও যায়নি।”
সিএনএন বলেছে, হাসিনার পতনের পর ১৭ বছর দমন-নিপীড়নের পর প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা দলটির প্রধান নেতা তারেক রহমান এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য জয়ীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বলেও জানিয়েছে তারা।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ‘ফিরে আসা’ উপভোগ করছে উল্লেখ করে সিএনএন বলেছে, হাসিনার সময়ে অত্যাচারের শিকার হওয়ার পর জামায়াত পুনরুত্থান দেখছে।
জুলাই বিপ্লবের পর তৈরি হওয়া এনসিপিকে নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, এনসিপি বাংলাদেশের ‘সহিংস’ রাজনীতিতে শক্তিশালীভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। উল্টো তারা ডিসেম্বরে জামায়াতের সঙ্গে জোট করার ঘোষণা দেয়। যা অনেককে অবাক করেছিল।

সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস প্রফেসর নাওমি হোসেন সিএনএনকে বলেছেন, “জামায়াতের সঙ্গে এ জোটের অন্যতম কারণ হলো নিরাপত্তা। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এনসিপির কিছু নেতার জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।”
সংসদের প্রতিনিধি হলে সহিংস রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়টিও এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এনসিপির নেতারা মনে করেছে যদি তারা (জোট করে) সংসদে যেতে পারে তাদের নিরাপত্তাও বাড়বে।
তবে যে জামায়াতের সঙ্গে তারা জোট করেছে, তারা কোনো নারীকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়নি। এ নিয়ে এনসিপির অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাদের মধ্যে অন্যতম নাফিজা জান্নাত।
তিনি বলেছেন, “এনসিপি সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিসহ অনেক কিছুর ব্যাপারে কথা দিয়েছিল।” জামায়াতের সঙ্গে জোট এবং কোনো নারীকে নমিনেশন না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “এটি একটি অসম্মানজনক ঘটনা। আমি তাদের বলেছি এটি আমাদের জন্য কতটা লজ্জাজনক।”
তবে এবারের নির্বাচনে অনেক কিছু নতুন আসবে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সূত্র: সিএনএন
ভোরের আকাশ/এনএস