বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তিতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা যুক্তরাষ্ট্রের

বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রশংসা করেন রুবিও।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ছিল আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। বৈঠকে উভয় পক্ষ অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়।
বৈঠকে ইসহাক দার বলেন, “পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ, তবে আমরা শান্তি চাই। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মিত্র দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে আগ্রহী নই। তবে দুঃখজনকভাবে ভারত সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”
বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইরান-সম্পর্কিত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের আগ্রহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতির জন্য দেশটি কৃতজ্ঞ। মার্কো রুবিও বলেন, “পাকিস্তান সবসময়ই বৈশ্বিক শান্তিতে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবদান রেখে আসছে।”
ইসহাক দার বৈঠকে আরও বলেন, “আমেরিকান ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য পাকিস্তান একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য। আমাদের অর্থনীতিতে বহুমুখী সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পাকিস্তানি সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।”
উভয় নেতা বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। আলোচনায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও মতবিনিময় হয়। ইসহাক দার বৈঠকের শেষে বলেন, “যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক ভূমিকার আমরা গভীরভাবে প্রশংসা করি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।”
সূত্র: ডন, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট
ভোরের আকাশ//হ.র