কঙ্গোতে তামা ও কোবাল্ট খনিতে সেতু ধসে নিহত ৪০

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) একটি তামা ও কোবাল্ট খনিতে প্রবেশের অস্থায়ী মই ভেঙে মাটি ধসে কমপক্ষে ৪০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খনি খাত তদারকি সংস্থা এসএইএমএপি এই তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লুয়ালাবা প্রদেশের কালান্ডো খনিতে। প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোয়া কাওমবে মায়োন্ডে জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে আগেই খনিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু বেপরোয়া শ্রমিকরা জোর করে খনিতে ঢুকে পড়েন। পরে আতঙ্কে বের হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) এপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যার পানি ঠেকাতে খনিতে একটি অস্থায়ী মই তৈরি করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে দৌড়ে মইটি পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটি ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই মাটি ধসে যায়।
এসএইএমএপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে সেনাদের গুলিবর্ষণের শব্দে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে শত শত শ্রমিক একসঙ্গে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলে মইটি ভেঙে পড়ে এবং তারা একে অপরের ওপর পড়ে যান। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মায়োন্ডে জানান, অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এসএইএমএপি বলছে, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালান্ডো খনিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সমবায়, বেপরোয়া খনিকর্মী ও খনির বৈধ পরিচালনাকারীদের মধ্যে বিরোধ চলছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রাদেশিক সমন্বয়ক আর্থার কাবুলো জানান, কালান্ডো খনিতে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। ঘটনার পর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ রোববার সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, খনিশ্রমিকদের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেনাবাহিনী এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
ভোরের আকাশ/তা.কা