ছত্তিশগড়ে ৩ জনকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ অন্তত তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ওই তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় একটি ফরচুনার এসইউভিকে ট্রাক দিয়ে ঘিরে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগুন নেভানোর পর গাড়ির ভেতর থেকে স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিংসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ভারত সিংয়ের পরিবার দাবি করেছে, বালু মহাল সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ—এমন অভিযোগও করেছেন তার স্বজনরা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মন্নু ত্রিপাঠী। আরও কয়েকজনের খোঁজে অভিযান চলছে। হত্যাসহ গুরুতর অভিযোগে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা ছিল ভারত সিংয়ের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। এরপর সোনহাত, কৈলাশপুর, তেলিমুদা, বেলিয়া ও ছিংগুরা এলাকায় বালু পরিবহন ও অবৈধ চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয়। এই দ্বন্দ্ব ভারত সিংয়ের পক্ষ এবং আরেক বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।
ত্রিপাঠী পরিবারের ট্রাকগুলো বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। বালু উত্তোলন ও নিয়ন্ত্রণ ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার, হুমকি এবং আধিপত্যের লড়াইয়ে রূপ নেয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তদন্তকারীদের মতে, ভারত সিং ও তার সহযাত্রীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে ট্রাক দিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর গাড়ির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় ভারত সিংসহ তিনজন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং। আহত মায়াঙ্ক সিংকে গুরুতর অবস্থায় বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। পুরনো বিরোধ থাকলেও কীভাবে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে উঠল, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। অন্যদিকে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই জানিয়েছেন, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে এবং তদন্ত চলছে। দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি।
ভোরের আকাশ/সু.পা