লাহোরে বসন্ত উৎসবে ১৭ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানের লাহোরে চলতি মাসের প্রথমদিকে উদযাপিত ‘বসন্ত’ উৎসবে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়টি লাহোর হাই কোর্ট-এ (এলএইচসি) বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন।
এক আইনজীবীর দায়ের করা পিটিশনের শুনানির পর আদালত মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এ বছর ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ ১৮ বছর ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব নিষিদ্ধ ছিল। চলতি বছর পাঞ্জাব সরকার ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
তবে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিলেও উৎসব-সংশ্লিষ্ট শতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎসব চলাকালে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান, দুইজন গাছ থেকে পড়ে এবং আরও ১২ জন ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারান।
তবে উৎসবে ঘুড়ির সুতায় কতজন আহত হয়েছেন, সে সংক্রান্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজহার সিদ্দিক।
এর আগে জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম প্যানেল এবং অন্যদের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পুলিশের কাছে হতাহতের প্রতিবেদন তলব করেছিলেন। এই আবেদনে পাঞ্জাব ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-কে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।
ধারালো সুতার কারণে মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যু ও গুরুতর জখম এবং উৎসবে আকাশমুখী গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় ২০০৭ সালে পাঞ্জাবে ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের নতুন অধ্যাদেশের আওতায় উৎসবে কেবল সুতা দিয়ে তৈরি মাঞ্জা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। ধাতব বা রাসায়নিক প্রলেপযুক্ত ধারালো সুতা তৈরি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
উৎসবের নিরাপত্তায় পুরো শহরকে তিনটি জোনে ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের গলায় আঘাত ঠেকাতে সুরক্ষা তার বা অ্যান্টেনা লাগানো, আকাশমুখী গুলিবর্ষণ এবং ছাদে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়।
উৎসব শেষে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ লাহোরে একটি ‘নিরাপদ বসন্ত’ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, এবারের উৎসবে ঘুড়ির সুতার আঘাতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি।
ভোরের আকাশ/নি. ব