এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কবার্তা, কড়া প্রতিক্রিয়া চীনের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নয়ন সাময়িকভাবে ধীর করার জন্য বিশ্বজুড়ে শীর্ষ প্রযুক্তিবিদদের সতর্কবার্তা এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘স্নায়ুযুদ্ধ কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন।
সম্প্রতি মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক-এর সিইও দারিও আমোদি, ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, এবং ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত বাড়তে থাকা অনিয়ন্ত্রিত এআই প্রযুক্তি অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। এই সতর্কবার্তার জেরে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শেয়ারে বড় ধস নেমেছে। এর বিপরীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি প্রকাশ করেছে।
বেইজিং বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য বিশ্বব্যাপী এআই ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং কোনও পক্ষেরই এতে স্বার্থ নেই।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ান শুধু বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং এটি কারও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, সব পক্ষের উচিত উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবার জন্য কল্যাণকর উপায়ে এআইয়ের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং মানবকল্যাণের দিকে নজর রাখা।
চীনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকজন নেতা প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দারিও আমোদেই, জ্যাকব কক্সনসহ শিল্পখাতের ব্যক্তিরা সতর্ক করেছেন, এআইয়ের সক্ষমতা যদি বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকে, তাহলে এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নে গতি কমানোর ধারণার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার বক্তব্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ এগিয়ে থাকবে, কৌশলগতভাবেও সেই দেশ বড় সুবিধা পাবে।
ভোরের আকাশ/আ.র