রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের মামলা করল যুক্তরাষ্ট্র

কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২০ মে) ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বৈরিতাপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবা নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের পর থেকেই দেশটিতে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে।
রাউল কাস্ত্রো এবং কিউবার সামরিক বাহিনীর পাঁচ পাইলটের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সে সময় কিউবান নির্বাসিতদের পরিচালিত দুটি বিমান কিউবার যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। ওই ঘটনায় কয়েকজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের চারটি অভিযোগ এবং দুটি বিমান ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে কিউবাতেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
বিদেশি কোনো সাবেক রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ফৌজদারি মামলা খুবই বিরল ঘটনা। অনেকেই এটিকে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার কোস্ট গার্ড অ্যাকাডেমির এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “হাভানার উপকূল থেকে পানামা খাল পর্যন্ত সব ধরনের অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও বিদেশি আগ্রাসনের শক্তিকে আমরা প্রতিহত করব।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে কিউবা। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, কিউবা নিজেদের আকাশসীমা রক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিল। তার ভাষায়, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কিউবার বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। সূত্র: রয়টার্স
ভোরের আকাশ/সু.পা