শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরান-লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্পকে নিয়ে হতাশ নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে। ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর প্রাক্কালে নেতানিয়াহুর হিসেব ছিল, এই যুদ্ধ ইরানের ইসলামি সরকারের পতন ঘটাবে। একই সাথে ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটের এই সাফল্য তার ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো রূপ নিয়েছে।

নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানে সরকার পতন তো হয়ইনি, উল্টো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরান থেকে একপ্রকার বিতাড়িত হয়ে লেবাননে তাদের অভিযান সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধ থেকে আমেরিকাকে বের করে নিতে চাইছেন। শুধু তাই নয়, লেবাননে আইডিএফ-এর সামরিক অভিযানও ট্রাম্প পছন্দ করছেন না।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু চান লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখতে। এই রণকৌশলগত মতবিরোধের জেরে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার তীব্র দ্বন্দ্ব হয়েছে এবং ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে রূঢ় ভাষায় গালাগাল ও তীব্র ভর্ৎসনাও করেছেন বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এমন আচরণের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সাময়িকভাবে লেবাননে হামলা বন্ধ রাখলেও, পরের সপ্তাহ থেকেই আবারও আক্রমণের নির্দেশ দেন। তবে প্রকাশ্যে 'বন্ধু' ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত আছেন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কারণ, ওয়াশিংটন নিজেদের সমালোচনা মোটেও পছন্দ করে না।

প্রকাশ্যে সাবধানতা অবলম্বন করলেও অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট। বিশেষ করে আগামী ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে 'ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং' নামে যে সমঝোতা চুক্তিটি সই হতে যাচ্ছে, সেটিকে ইসরায়েলের জন্য ‘ভয়ঙ্কর’ মনে করছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার।

জোটের শরিক একটি দলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি যে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে খোদ সেনাপ্রধান পর্যন্ত কারোরই কোনো দ্বিমত নেই। নেতানিয়াহুর মূল ভয় লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিয়ে। তিনি ভেবেছিলেন মার্কিন সহায়তায় ইরান ও হিজবুল্লাহ উভয়কেই গুঁড়িয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু দীর্ঘ সংঘাত ও রক্তপাতের পরও তাদের পতনের কোনো লক্ষণ নেই। উপরন্তু, ট্রাম্প এখন ইরানের সাথে সমঝোতার টেবিলে বসছেন।

সোমবার জেরুজালেমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সাথে চলমান এই টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন নেতানিয়াহু। জবাবে তিনি কূটনীতির চালে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আর আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় আমাদের মতের মিল হয়, আবার অনেক সময় হয়ও না। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির খবরে টানা চতুর্থ দিনে বাড়ল স্বর্ণের দাম

নেতানিয়াহুর এই কৌশলী মন্তব্য নিয়ে ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরো রয়টার্সকে বলেন, এটি দুই দেশের স্বার্থগত মতপার্থক্যের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা করবেন না ঠিকই, তবে তিনি আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে ইসরায়েল এই চুক্তি মানতে বাধ্য নয়।

ড্যান শাপিরো আরও উল্লেখ করেন যে, সামনেই ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং দেশের অভ্যন্তরে ভোটারদের মাঝে নেতানিয়াহুর সমর্থন এখন তলানিতে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি সময় পার করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

ভোরের আকাশ/এম
 

ইরান-লেবানন

শেয়ার করুন: