শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফুকেটে পার্টি করেছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৫:২২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লি থেকে ফুকেট গিয়ে আবার ফিরতি ফ্লাইট নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফেরার মাঝে বিরতি ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টার। এরইমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট বিমানের ক্রুদের নিয়ে পার্টিতে গিয়েছিলেন।

গত ৪ আগস্ট মাঝ আকাশে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের পাইলটের বিরুদ্ধে পার্টি করা ছাড়াও আরো সব গুরুতর অভিযোগ আনছেন যাত্রী ও ফ্লাইটের ক্রু মেম্বাররা।

এর আগে পরপর দুটি ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হন অভিযুক্ত পাইলট। তার রক্তে মারিজুয়ানা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পাইলট দিল্লি থেকে ফুকেট যাওয়ার সময় একবার ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন।

নিয়ম অনুযায়ী তখন একজন ক্রু মেম্বারকে ককপিটের জাম্প সিটে বসিয়ে রেখে যান তিনি। কিন্তু সেই নারী ক্রু ককপিটের কাজে অভ্যস্ত ছিলেন না। তাই পাইলট ফিরে এসে তাকে তিরস্কার করেন। তবে ফুকেটে নামার পর তার মনে হয়, বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে।

তাই বিষয়টি মিটমাট করতে তিনি সবাইকে পার্টিতে নিয়ে যান। তবে পার্টিতেও মন গলেনি সেই ক্রু মেম্বারের। ফেরার সময় তিনি ইনচার্জের কাছে চেয়ে বিমানের পেছনের দিকে দায়িত্ব নেন। বকার ভয়ে তিনি ককপিটের আশপাশে থাকতে চাননি।

ফ্লাইটের আগে, ফ্লাইটের ভেতরে এবং নামার পরও পাইলটের আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলট সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো-এর একজন তদন্তকারী তাকে সতর্ক করে দিয়ে মনে করিয়ে দেন, সিসিটিভির মাধ্যমে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তারপরও তাকে বসানোর জন্য সাহায্য করতে হয়েছিল। এমনকি প্রস্রাবের নমুনা জমা দেওয়ার সময়ও পাইলটকে শারীরিকভাবে সাহায্য করতে হয়েছিল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত একজন কেবিন ক্রু পাইলটের বিরুদ্ধে মারিজুয়ানা সেবনের অভিযোগ এনে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লি ফিরছিল। ওড়িশার আকাশসীমায় মাঝ-আকাশে হঠাৎ বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনার সময় বিমানের প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না, দায়িত্বে ছিলেন কো-পাইলট।

বিমানটি তীব্র গতিতে নিচে নামার সময় ভেতরে সাময়িকভাবে ‘নেগেটিভ গ্র্যাভিটি’ বা ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়। ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে উঠে ছিটকে পড়েন। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু আহত হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্লাইটের একজন যাত্রী পাইলটের কথা বলতে গিয়ে জানান, আমার ভাই এবং আমিই ছিলাম ফ্লাইটে ওঠা শেষ যাত্রী। পাইলটও আমাদের সঙ্গেই ফ্লাইটে উঠেছিলেন। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ফ্লাইটটি সঠিক সময়ে আছে কি না এবং আমাদের দেরি হয়ে গেছে কি না।

তিনি উত্তর দিতে অনেক সময় নিচ্ছিলেন এবং তার চোখগুলো ছিল লাল। আমি তখন আমার ভাইকে বলেছিলাম যে, তাকে নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছে, আর তারপর কী ঘটেছিল তা তো আপনারা সবাই জানেনই। 

ফ্লাইটটি যখন হঠাৎ উচ্চতা হারাচ্ছিল, সেই মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ফ্লাইট শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা পর, যখন সকালের নাশতা দেওয়া শেষ এবং সবাই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন আমার ভাই আর আমি একসঙ্গে বসেছিলাম এবং আমাদের চোখ বন্ধ ছিল। হঠাৎ আমরা খুব জোরালো একটা শব্দ শুনলাম, ঠিক যেন একটা ফাইটার জেটের মতো।

পরের মুহূর্তেই আমি দেখলাম আমার ভাই তিন থেকে চারবার ছাদে গিয়ে বাড়ি খাচ্ছে, আর চারপাশের সবকিছু উড়ে বেড়াচ্ছে। মানুষ রক্তাক্ত হচ্ছিল, চিৎকার করছিল, কান্নাকাটি করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছিল এবং পাইলটকে এটি থামাতে বলছিল।

পাইলটের আচরণের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার জীবনে এই প্রথমবার আমি দেখলাম কোনো পাইলট ককপিট থেকে বের হয়ে যাত্রীদের নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে কেউ ভিডিও রেকর্ড না করে বা এটা-সেটা না করে। 

তার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল- তিলকে তাল করবেন না। আমরা তখন জীবন-মরণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম; এই পরিস্থিতিতে কার এত ভিডিও রেকর্ড করা নিয়ে মাথাব্যথা থাকে? যাত্রীদের নিরাপত্তা বা চিকিৎসা তার মাথায় ছিল না। তার উদ্দেশ্য ছিল যেকোনোভাবে দিল্লিতে ল্যান্ড করা, যাতে তাকে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয় বা এই জাতীয় কিছু এড়ানো যায়। এই কারণেই তিনি অন্য কোথাও কোনো ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করেননি।

তবে অভিযুক্ত পাইলট মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘুমের সমস্যার জন্য ওষুধ সেবনের কথা জানিয়েছেন। একটি ফ্লাইট সেফটি বিবৃতিতে পাইলট বলেন, ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে আমি আগের কিছু সময় ধরে আলাদাভাবে ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলাম, যার জন্য আমার পারিবারিক ডাক্তার আমাকে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, যাত্রাবিরতির সময় আমি নিজে ঘুমানোর চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু সহজে ঘুম আসছিল না।

আরও পড়ুন

টেকনাফের বেপরোয়া ডাম্পার ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

তিনি জানান, ডিউটি রোস্টারটি আইনিভাবে নির্ধারিত বিশ্রামের সীমার মধ্যে থাকলেও, এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা দিনের বেলার প্রাপ্য বিশ্রামের সময় কমিয়ে দিয়েছিল।

ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত চলার সময়ে পাইলট ও কো পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ভোরের আকাশ/এম

এয়ার ইন্ডিয়া

শেয়ার করুন: